ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নির্বিষ বোলিংয়ে বাংলাদেশের হতাশাময় দিন

নির্বিষ বোলিংয়ে বাংলাদেশের হতাশাময় দিন

সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে একাই যেন নতুন ইতিহাস লিখেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। তার অপরাজিত ২৪২ রানের অতিমানবীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লিডও পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না। গতকাল রোববার চতুর্থ দিনের পুরোটা সময় ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। কাভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জয়ের স্বপ্ন থেকে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছে কঠিন বাস্তবতায়। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া হজ ১৮৯ বলে ১৪০ রান করে অপরাজিত আছেন। তার ইনিংসে রয়েছে ১৭টি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ২০ রান নিয়ে অপরাজিত আমির জাঙ্গু। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৬১ রান।

দিনের শুরুতে অবশ্য পরিস্থিতি এতটা একতরফা ছিল না। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার জশুয়া ডা সিলভা ও ব্র্যান্ডন কিং বেশ সতর্কভাবেই এগোচ্ছিলেন। ৮৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটান তাইজুল ইসলাম। তার বলে এলবিডব্লু হয়ে ৩০ রান করে ফেরেন ডা সিলভা।

এরপর দ্রুতই আরেকটি উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হজের ব্যাটের কাছাকাছি বল উঠে গেলে ক্যাচ ধরেন ফিল্ডার। আম্পায়ারও আঙুল তুলে দেন। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হজ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাট বা গ্লাভসে নয়, লেগেছিল প্যাডে। তখন তার রান ছিল মাত্র ১৬। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠেন এই ব্যাটার।

তবে দ্বিতীয় উইকেটের পতন খুব বেশি দেরিতে হয়নি। ১১৯ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় উইকেটের জুটি। মিরাজের বলে প্রথম স্লিপে দারুণ ক্যাচ নিয়ে ব্র্যান্ডন কিংকে ফেরান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৪ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ৬১ রান করেন ক্যারিবীয় ওপেনার। এরপর লাঞ্চের আগে ও পরে দীর্ঘ সময় আর কোনো উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।

দিনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে তৃতীয় উইকেটের জুটিতে। হজের সঙ্গে যোগ দেন অভিষিক্ত কেভিন উইকহাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই দারুণ আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন তিনি। দুজন মিলে ২২১ বলে গড়েন ১৬৫ রানের জুটি। একদিকে হজের সাবলীল ব্যাটিং, অন্যদিকে উইকহামের দায়িত্বশীল সঙ্গ-দুইয়ে মিলে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেন তারা। উইকহাম ৭৮ রান করে বিদায় নিলেও ততক্ষণে ম্যাচের চিত্র পাল্টে গেছে। হজকে থামানোর কোনো কার্যকর উপায় খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। দিনের শেষ ভাগে আমির জাঙ্গুকে নিয়ে আরও ৬১ রান যোগ করেন তিনি। ফলে চতুর্থ দিনের শেষ ঘণ্টায়ও বাংলাদেশের বোলারদের অপেক্ষা করতে হয়েছে উইকেটের জন্য।

এর আগে হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকেরা। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন দৃঢ়তা আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনের বিবর্ণ বোলিং সেই আশার অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

এখন বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক সমীকরণ। টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫। ২০০৯ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে আর কোনো টেস্ট জেতেনি দলটি। এবার প্রতিপক্ষের লিড এরইমধ্যে ৩১৫ রান। পঞ্চম ও শেষ দিনে কোনো এক পর্যায়ে ইনিংস ঘোষণা করতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর হাতে থাকা সময় ও উইকেট বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের সামনে আসবে লক্ষ্য তাড়া কিংবা ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। তবে চতুর্থ দিনের পারফরম্যান্সের পর সিলেটে স্বাগতিকদের জন্য স্বস্তির জায়গা খুব বেশি নেই!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৫৬/১০ ও ৩৪৫/৩ (হজ ১৪০*, উইকহ্যাম ৭৮, কিং ৬১; তাইজুল ২/১১৮, মিরাজ ১/৫৮)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৮৬/১০ (হৃদয় ২৪২*, মুশফিক ৩৪; ওয়ারিক্যান ৪/১০৪)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১৫ রানে এগিয়ে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত