
এই পৃথিবীতে আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের মধ্যে অসাধারণ এক নেয়ামত হলো শীতকাল। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টিকুলের জীবন ধারণে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার নিমিত্তে মৌসুমের পরিবর্তন ঘটান। আমাদের দেশে ছয় ঋতু বিদ্যমান থাকলেও এর মাঝে আবহাওয়াগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। তবে শীতল ও মনোরম আবহাওয়া পরিলক্ষিত হয় একমাত্র শীতকালে। শীতকাল মোমিনের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। শীতের মৌসুম মোমিনের ইবাদতের মৌসুম। কথায় বলে, ঋতুর রাজা বসন্ত। কিন্তু মোমিনের জন্য ঋতুর রাজা শীত। হাদিসে শীতকালকে ইবাদতের মৌসুম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শীতকাল হচ্ছে মোমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমাদ-১১৬৫৬)। আমের ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘শীতল (সহজ) গণিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা।’ (তিরমিজি, হাদিস-৭৯৫)।
আরামদায়ক এই মৌসুমে মোমিনের জন্য ইবাদতে মশগুল থাকা সহজ। দিনের বেলায় সূর্যের তাপের প্রখরতা থাকে না। আবার দিন অতি সংক্ষিপ্ত আকারও ধারণ করে। ফলে দিনে রোজা রাখা অতি সহজ। আর রাত হয়ে যায় অতি দীর্ঘ।
পর্যাপ্ত ঘুম হওয়ার পরও শেষ রাতে ইবাদত করার সুবর্ণ সুযোগ থাকে। রাতের শেষাংশে তাহাজ্জুদ আদায়ের মাধ্যমে আরেকটি দিনের সূচনা করা যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তুমি তাহাজ্জুদ পড়। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৭৯)। বায়হাকিতে এসেছে ‘শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মোমিন রাতে নফল সালাত পড়তে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে।’ (বায়হাকি-৩৯৪০)।
শীতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অজু করার সময় সচেতনতা ও সতর্কতা কাম্য। বিশেষত কনুই, গোড়ালি যথাযথভাবে ধৌত করা। আর দীর্ঘ সময় অজু ধরে রাখার চেষ্টা না করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘আফসোস ওই গোড়ালিগুলোর জন্য, যেগুলোর ঠিকানা হবে জাহান্নাম (ভালোভাবে না ধোয়ার কারণে)।’ (মুসলিম : ৪৫৯)।
আল্লাহ তায়ালা মোমিনের ইবাদতে শিথিলতা প্রদান করেছেন।
সাধারণত আমরা শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে চামড়ার মোজা ব্যবহার করে থাকি। এতে অজুর সময় মোজা খোলা কষ্টসাধ্য হয়। তাই শরিয়ত মোজার ওপর মাসেহ করার বিধান রেখেছে। বস্তুত মোজার ওপর মাসেহর বিধান মহান আল্লাহর একটি বড় অনুগ্রহ। আবু বকর, ওমর ও আলী (রা.)-সহ বহু সাহাবি বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মোকিম ব্যক্তি একদিন এক রাত এবং মুসাফির তিন দিন তিন রাত বিশেষ ধরনের মোজার ওপর মাসেহ করবে।’ (বোখারি : ১/৫৮)।
এছাড়া শীত মৌসুমে আরও বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। যথা কোরআন-হাদিসের অধ্যয়নে জানা যায়, অতি শীত দিয়ে জাহান্নামিদের আজাব দেওয়া হবে। ওই আজাব থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে পানাহ চাওয়া উচিত। আর খেয়াল রাখা উচিত যেন নামাজের সময় মুখে এমনভাবে চাদর না বাঁধা যে মুখ একটুও দেখা যায় না।
শিক্ষার্থী : ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়