প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৮ আগস্ট, ২০২৬
আয্ খোদা’ জুয়ীম তাওফিকে আদব।
বী আদব মাহরূম শুদ আয্ লুতফে রাব
আল্লাহর কাছে মাগি আদবের তওফিক
বেয়াদব আল্লাহ্র দয়া থেকে হয় বঞ্চিত।
কোনো কোনো সংকলনে এর পরিবর্তে এর উল্লেখও দেখা যায়। অর্থে তেমন পার্থক্য নেই। ফযল মানে দান, অনুগ্রহ।
বী আদব তান্হা’ ন খোদরা’ দা’শ্ত বাদ
বল্কে আ’তাশ দার হামে আ’ফা’ক্ব যাদ
বেয়াদব যে শুধু নিজকে নষ্ট করেছে তাই নয়
বরং সে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দিক-দিগন্তে বিশ্বময়।
মা’য়েদা আয আ’সমা’ন দার মী-রাসীদ
বী সুদা’ ও বী-ফোরূখত ও বী খারীদ
খাবারের খাঞ্চা অবতরণ হচ্ছিল আসমান থেকে,
কোনো চিন্তা, মাথাব্যথা, বেচাকেনা ব্যতিরেকে।
দার মিয়া’নে কাওমে মূসা’ চান্দ কাস
বী আদব গুফতান্দ কূ সীর ও আদাস
মুসার কওমে কতক লোক ছিল বেয়াদব
তারা বলল : কোথায় রসূন ও ডাল।
কোরআন মজিদে প্রতিপাদ্য আয়াত ‘আমি তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া।’ (সুরা বাকারা : ৫৭)।
কোরআন মজিদে এ সম্পর্কে আরও বর্ণিত হয়েছে-
‘স্মরণ করো ওই সময়ের কথা যখন তোমরা বললে : হে মুসা! আমরা একই ধরনের খাদ্যদ্রব্যে কখনো ধৈর্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের হয়ে প্রার্থনা কর। তিনি যেন আমাদের জন্য এমন বস্তুসামগ্রীর ব্যবস্থা করেন, যা জমিতে উৎপন্ন হয়। তরি-তরকারি, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি। মুসা (আ.) বললেন : তোমরা কি উত্তম বস্তুর পরিবর্তে নিকৃষ্ট বস্তু নিতে চাও?’ (সুরা বাকারা: ৬১)
এই বেয়াদবির ফল দাঁড়াল-
মুনকাতে‘ শুদ না’ন ও খা’নে আ’সেমা’ন
মান্দ রাঞ্জে জার‘ ও বীল ও দা’সেমা’ন
আসমান থেকে রুটি ও খাবার আসা বন্ধ হলো
চাষবাস, কোদাল, কাস্তে তাদের জন্য রয়ে গেল।
বা’য ঈসা চোন শফা’য়াত কার্দ হাক
খান ফেরেস্তা’দ ও গনীমত বার তাবাক
পুনরায় ইসা যখন সুপারিশ করলেন, আল্লাহ
খাঞ্চায় ভরে মুফ্ত গনীমত উপঢৌকন পাঠালেন।
ইসা ইবন মরিয়ম বললেন : হে আল্লাহ! আমাদের পালনকর্তা। আমাদের প্রতি আকাশ হতে খাদ্য-ভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্য অর্থাৎ আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্য আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুজি দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠ রুযিদাতা। আল্লাহ বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করব। এরপর যে ব্যক্তি এরপরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি জগতের আর কাউকে দেব না।’ (সুরা মায়েদা : ১১৪-১১৫)।
বা’য গুস্তা’খা’ন আদব বগুযা’শতন্দ
চোন গেদা’য়া’ন যল্লাহা’ বরদা’শতন্দ
বেয়াদবরা আবারো ত্যাগ করল আদব লেহাজ,
ভিক্ষুকের মতো তুলে রাখা শুরু করল উদ্বৃত্ত খাবার।
তাদের প্রতি হুকুম ছিল, তৃপ্তি সহকারে আহার করার পর উদ্বৃত্ত খাদ্য গরিবদের বিলিয়ে দিতে হবে। আসমানি খাবার যেহেতু অব্যাহতভাবে আসতে থাকবে, সেহেতু লোভী ভিক্ষুকদের মতো আচরণ করতে পারবে না, সামনের বেলার জন্য জমা রাখতে পারবে না। কিন্তু তারা আল্লাহর নেয়ামত ও আশ্বাসের সম্মান বজায় রাখেনি।
লা’বে কার্দে ঈসা’ ঈশা’নরা’ কে ঈন
দা’য়েমাস্ত ও কাম নাগার্দাদ আয্ যামীন
ইসা (আ.) তাদের খুব নরম হয়ে বুঝালেন যে,
এটা আসতে থাকবে, পৃথিবীতে কমতি হবে না তাতে।
মওলানা এখানে একটি শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়ে বলছেন-
বাদগুমা’নী কার্দান ও হেরচ আ’ওয়ারী
কুফ্র বা’শাদ্ পীশে খা’নে মেহ্তারী
খারাপ ধারণা পোষণ আর লোভের বশবর্তী হওয়া
বড়লোকের যিয়াফতে গিয়ে বড় অন্যায় কুফরী কথা।
বেয়াদবরা আল্লাহর নেয়ামত ও আশ্বাসের বেলায় এতটুকুন আস্থা, ভদ্রতা দেখাল না; বরং আল্লাহর নাফরমানি ও কুফরি করল।
যা’ন গেদারূয়া’নে না’ দীদে যে আ’য্
আ’ন দারে রাহমাত বার ঈশা’ন শুদ ফারা’য
লোভে অন্ধ সেই ভিক্ষুক স্বভাবের লোকদের কারণে,
রহমতের সেই দরজা বন্ধ হয়ে গেল তাদের জন্য।
পৃথিবীতে যত বিপর্যয় ঘটে, তার পেছনে প্রাকৃতিক কারণ থাকে, আর প্রাকৃতিক কারণের পেছনে থাকে নৈতিক কারণ। মওলানা এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন- আব্র বার না’য়দ পেয়ে মানএ যাকা’ত
ওয্ যেনা’ ওফ্তদ্ ওয়াবা’ আন্দার জেহা’ত
জাকাত দেওয়া বন্ধ হলে মেঘ বাদল ওঠে না (আকাশে)
যিনা-ব্যভিচারের ফলে ছড়িয়ে পড়ে মহামারি চারদিকে।
হারচে বার তো আ’য়াদ আয্ যুলমা’ত ও গাম
আ’ন যে বীবা’কী ও গোস্তা’খীস্ত হাম
যা কিছু আপতিত হয় তোমার ওপর আঁধারি দুশ্চিন্তা,
তাও সেই বেয়াদবি ও ধৃষ্টতার সাক্ষাৎ ফলশ্রুতি।
এই বয়েতের প্রতিপাদ্য কোরআন মজিদের আয়াত :
‘তোমার ওপর যে কোনো বিপদ আপতিত হয় তা তোমার কর্মফলের দরূণই হয়ে থাকে।’ (সুরা নিসা : ৭৯)।
হারকে বী বা’কী কুনাদ দার রা’হে দূস্ত
রাহ্যানে মারদা’ন শুদ ও না’মার্দ উস্ত
বন্ধুর পথে যে বেপরোয়া ধৃষ্টতা দেখায়
মানুষের জন্য সে ডাকাত আর নিজে কাপুরুষ।
আল্লাহর পথে বেপরোয়া আচরণ যারা করে, তারা ভণ্ড। আল্লাহর পথের পথিকদের জন্য এরা ডাকাত। ব্যক্তি-জীবনে এরা কাপুরুষ, গুমরাহ। বেয়াদবির কুফল বর্ণনার পর এখন আদব ও বিনয়ী স্বভাবের সুফল আলোচনা করছেন মওলানা রুমি (রহ.)।
আয আদব পুরনূর গাশ্তাস্ত ঈন ফালাক
ওয়ায্ আদব মাসূম ও পা’ক আ’মাদ্ মালাক
আদবের কারণেই নূরে নূর আলোকময় এ নভোমণ্ডল,
আদবের কারণেই ফেরেশতারা পূতঃপবিত্র নিষ্পাপ।
‘অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন, যা ছিল ধূম্রকুণ্ড, অতঃপর তিনি তাকে (আকাশকে) ও পৃথিবীকে বললেন : ‘তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারা বলল : আমরা আসলাম স্বেচ্ছায় অনুগত হয়ে।’ (সুরা ফুসসিলাত : ১১)
এরই পুরস্কার হিসেবে আল্লাহতায়ালা তাতে চন্দ্র-সূর্য ও নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করে আলোকময় ও সুশোভিত করেছেন। হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর আল্লাহতায়ালা আদমকে সেজদা করার জন্য হুকুম দিয়েছিলেন ফেরেশতাদের প্রতি। ফেরেশতারা সে হুকুমের সামনে মাথানত করে আদবের পরিচয় দিয়েছিলেন। ফলে তারা সম্মানিত, নিষ্পাপ, মাসুম।
বুদ যে গোস্তা’খী কসূফে আ’ফতা’ব
শুদ আযাযীলী যে জুরআত রাদ্দে বা’ব
বেয়াদবির কারণে সূর্যের গ্রহণ হয়
বেয়াদবির কারণে আজাজিল বিতাড়িত হয়।
আদমকে সিজদা করার হুকুম দেওয়ার পর ফেরেশতাদের সরদার আজাজিল আল্লাহর সঙ্গে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হলো। সে বলল, আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ। তুমি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছ আর তাকে সৃষ্টি করেছ, মাটি দ্বারা। (সুরা আরাফ : ১২)।
এই যুক্তিতর্ক আর আদমকে সেজদা করার হুকুম অমান্য করে যে বেয়াদবি করেছে, তার শাস্তি স্বরূপ আল্লাহর দরবার হতে সে বিতাড়িত, শয়তানে রজীম হয়েছে। প্রাচীন সৌরবিজ্ঞানে বিশ্বাস করা হতো যে, সূর্য যখনই তার স্বাভাবিক কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, তখন গ্রহণের কবলে পড়ে যায়।
মওলানা সূর্যের কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হওয়াকে বেয়াদবির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
আদব বা শিষ্টাচার সম্পর্কে আলোচনার পর মওলানা আবার গল্পের ধারাবাহিকতায় ফিরে আসছেন। (ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী রচিত মসনবি শরিফের গল্প ১-৬ খণ্ড প্রকাশ করেছে ছায়াপথ প্রকাশনী, মসজিদ বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স, ১৪৯/এ, এয়ারপোর্ট রোড, ফার্মগেট, ঢাকা। ফোন ০১৭১১১১৫৮২৯। মসনবির গল্পভিত্তিক আলোচনা শুনতে ইউটিউবে ভিজিট করুন- CHAYAPATH PROKASHONI)