
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আবারও চমক দেখাল সৌদি আরব। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোলে ম্যাচে ফিরে এসে সৌদি আরবের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উরুগুয়ে। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সৌদি আরবের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের গোলের দেখা পেতে দেয়নি। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজের গোলে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় লাতিন আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকে সৌদি আরব। শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে রক্ষণে সংগঠিত থাকার পাশাপাশি দ্রুত গতির কাউন্টার অ্যাটাকে তারা বারবার চাপ তৈরি করে। লাতিন আমেরিকার তারকা সমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে বেশ ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।
৪১ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে গোলমুখে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে হাসান আল তামবাকতির শক্তিশালী হেড ঠেকাতে গিয়ে ভুল করেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তার হাত ফসকে যাওয়া বল জালের সামনে চলে এলে সুযোগটি কাজে লাগান আবদুলেলাহ আল-আমরি। সহজ ফিনিশিংয়ে তিনি দলকে এগিয়ে নেন ১-০ ব্যবধানে।
গোলের পর স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসে ভরে ওঠে সৌদি আরব। অন্যদিকে অপ্রত্যাশিত এই গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যায় উরুগুয়ে। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দৃশ্যপট বদলাতে থাকে দ্রুতই। সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণে সৌদি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। কখনো শেষ মুহূর্তের ভুল, আবার কখনো সৌদি গোলরক্ষণের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হচ্ছিল তাদের প্রচেষ্টা।
ম্যাচ যত গড়াতে থাকে, ততই বাড়ে উরুগুয়ের চাপ। ৭০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও স্কোরলাইন ১-০ থাকায় আরও মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটে ৮০ মিনিটে।
আক্রমণভাগের ধারাবাহিক চেষ্টার ফল হিসেবে বল জালে পাঠান মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। তার গোলে ম্যাচে সমতা ফেরে ১-১ ব্যবধানে। এই গোলের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায় উরুগুয়ে, পাশাপাশি শেষ দিকে জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও চাপ তৈরি করে তারা। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয় তুলে নিতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
আবা/এসআর/২৬