অনলাইন সংস্করণ
১৯:২৮, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলারদের উইকেট-শিকারের তালিকাই বাংলাদেশের পেস বিপ্লবের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। যেখানে শীর্ষে আছেন নাহিদ রানা। বুমরাহ-শাহিনদের মতো বড় নামকে পেছনে ফেলে লাল-সবুজের পতাকা ওপরেই তুলে রাখছেন তাসকিন-শরিফুলরাও।
আর্চার, জোসেফ কিংবা নাথান স্মিথ। ইনজুরিতে থাকলেও ভিনদেশি সবাইকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় শীর্ষেই রয়েছেন বাংলাদেশের গতিতারকা নাহিদ রানা। এ তালিকায় দাপট দেখাচ্ছেন অনান্য বাংলাদেশি পেসাররাও। বুমরাহ-শাহিনদের মতো বড় নামকেও অনেক পেছনে ফেলে পেস বিপ্লবের সুর তুলেছেন তাসকিন-শরিফুলরা।
বছরের বাকি এখনো চার মাস। তবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে মাত্র ১৮ দশমিক ৩১ গড়ে ৪৪ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। যেখানে ফাইফার আছে ৪টি, ইনিংসে চার উইকেট আছে দুইবার।
তাও আবার অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তার থেকেও ৫ ইনিংস বেশি খেলে দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের আর্চারের উইকেট কম ৫টি, আর নিউজ্যালন্ডের নাথান স্মিথ পেয়েছেন ৯ উইকেট কম। আইসিসির এপ্রিল মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারেও মালাও ঝুলেছে এ টাইগার পেসারের গলায়।
শুধু নাহিদেই থেমে নেই বাংলাদেশের পেস-দাপট। ১৯ ম্যাচে ৩০ উইকেট নিয়ে টেস্ট খেলুড়ে দেশের বোলারদের মধ্যে শীর্ষ উইকেট শিকারির তালিকায় ৯ নম্বরে আছেন তাসকিন আহমেদ। আর মাত্র ১২ ম্যাচেই ২৯ উইকেট তালিকার ১০ নম্বরে আছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্টে এক ইনিংসে তুলেছেন যথাক্রমে ৬টি ও ৭টি উইকেট। অর্থাৎ শীর্ষ ১০ এ বাংলাদেশেরই রয়েছেন তিন পেসার।
তালিকায় পেছনে পড়ে আছেন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় বড় নামও। ভারতের জসপ্রিত বুমরাহ ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ উইকেট নিয়ে এ তালিকার শীর্ষ ৩০-এ নেই। পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি ২৬ উইকেট নিয়ে আছেন ১৯ নম্বরে। অথচ নাহিদ, তাসকিন ও শরিফুলের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ সারিতে।
একসময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে ছিলো বড় প্রশ্ন। এখন সেই আক্রমণই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটের হিসাব বদলে দিচ্ছে। নাহিদের গতি, তাসকিনের অভিজ্ঞতা আর শরিফুলের বাঁহাতি বৈচিত্র্য, তিন পেসারের এমন অবস্থান বাংলাদেশের পেস বিপ্লব যে আর শুধু আলোচনার বিষয় নয়, পরিসংখ্যানেও তার জোরালো প্রমাণ।