ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সঙ্কট চরমে, বিপাকে ঈশ্বরদীর রোগীরা

জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সঙ্কট চরমে, বিপাকে ঈশ্বরদীর রোগীরা

পাবনার ঈশ্বরদীতে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না থাকায় বে-সরকারি ফার্মেসিতে বেশি টাকা দিয়েও এই ভ্যাকসিন মিলছে না। ফলে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিনের ঘাটতির কারণে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে এসেও ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

অনেককে বাধ্য হয়ে পাবনা, নাটোর, রাজশাহী এমনকি ঢাকায় আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

স্ত্রীর জন্য ভ্যাকসিন নিতে আসা আতাবর আলী বলেন, আমার ছেলেকে কয়েকদিন আগে বিড়াল কামড়েছে। গত পরশুদিন ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে আমার স্ত্রীকে বেড়াল কামড় দেয়। আজ শনিবার সকালে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যোগাযোগ করে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। এরপর ঈশ্বরদীর সকল ফার্মেসিতে খোঁজ করেও ভ্যাকসিন পাচ্ছি না। ছেলেকে বিড়াল কামড়ানোর সময় নাটোর এবং রাজশাহী থেকে ভ্যাকসিন এনেছিলাম।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন দিন পর রাজশাহী থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন আনাতে হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদা অনুযায়ী র‌্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মিলছে না। এমন পরিস্থিতি লজ্জাজনক।

ঈশ্বরদী উপজেলার একাধিক ফার্মেসির মালিক নাম প্রকাশ না করা সত্তেও জানান, ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালের অনিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। কোনো বিকল্প না থাকায় রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টি এইচও) ডাক্তার আলী এহসান জানান, গত বছরের নভেম্বর থেকেই সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঈশ্বরদীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিনিয়ত কুকুর এবং বিড়ালে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে আসছে। জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট থাকায় রোগীরা বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সংকট নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিপাকে ঈশ্বরদীর রোগীরা,ভ্যাকসিনের সঙ্কট চরমে,জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত