
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল, পেশাদার ও আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হবে জনগণ যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা। এখানে ব্যর্থতার কোনও সুযোগ নেই।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পরিস্থিতি অনুযায়ী যতটুকু বলপ্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই করতে হবে। সিআরপিসি এবং পুলিশ রেগুলেশনের বাইরে কোনও কাজ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগে নতুন কোনও বাধা নেই। তবে কেউ ভয় দেখালে বা অবৈধ সুবিধার প্রস্তাব দিলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে পুলিশের ভাবার প্রয়োজন নেই, পেশাদারত্ব বজায় রাখলেই সাফল্য আসবে।
সভায় ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দেন আইজিপি। তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু বিপজ্জনক বিস্ফোরক ও নাশকতার পরিকল্পনার আলামত পাওয়া গেছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আগের মতো সক্রিয় না হলেও অস্ত্র উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। অবৈধ অস্ত্র বা গোপন আস্তানার তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা এবং বিশেষ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাও দেন তিনি।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আইজিপি বলেন, এটি দেখার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। পুলিশের কাজ হলো কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ও ইনকোয়ারি কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।
একইসঙ্গে, ভোটের দিন সব ইউনিটকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।