
পেঁয়াজ চাষে স্বাবলম্বী দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার কৃষক। ভালো ফলন ও লাভের আশায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি শীত মৌসুমে কৃষি অধিদপ্তর ২ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
কিন্তু এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ২ হাজার ১৮১ হেক্টর জমিতে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বপন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, বিগত দুই বছর সারা দেশে রবি মৌসুমের সব ধরনের ফসলের ঘাটতি ছিল। চলতি বছর কৃষি বিভাগ দেশের মানুষের রবি শস্যের চাহিদা পূরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেই লক্ষ্যে বাস্তবায়নে চলতি বছর জেলার ১৩টি উপজেলায় ২ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, শীত মৌসুমের শুরুতেই ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকে জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী দেশের সর্বত্র এলাকায় কৃষকেরা পেঁয়াজের চাষ করে থাকেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ভাব গ্রামের আদর্শ কৃষক মতিউর রহমান জানান, তিনি এবারে ৫০ শতক জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পেঁয়াজের গাছ কিছুটা বড় হয়েছে। পেঁয়াজ রোপণের পর থেকে তিন মাস সময় লাগে পেঁয়াজ জমিতে পরিপক্ব হতে। প্রতি বিঘা জমিতে রাসায়নিক সার ৩০ কেজি, পটাশ ৫০ কেজি, ফসফেট ১৫ কেজি এবং ২০ কেজি ইউরিয়া সার গোবরের সঙ্গে মিশিয়ে পেঁয়াজের জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করা হয়।
এক বিঘা জমি চাষ করতে ২০ হাজার টাকা পেঁয়াজের বীজ এবং রাসায়নিক সার, গোবর ও শ্রমিকের মূল্যসহ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। পৌষ মাস থেকে পেঁয়াজ রোপণ শুরু হয়। পেঁয়াজ পরিপক্ব হওয়ার আগেই পেঁয়াজের গাছসহ উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। তিনি জানান, নতুন পেঁয়াজের গাছ বাজারে গ্রাহকদের খুব চাহিদা থাকে।
পেঁয়াজের পাশাপাশি পেঁয়াজের পাতা এবং পেঁয়াজের শিকড় থেকে ফুলকা নামক একটি ডাঁটা বের হয়। ওই ডাঁটাটি শীতকালীন সময় মানুষের খাবার চাহিদা অনেকটাই পূরণ করে থাকে। তিনি আরও জানান, ৩৩ শতক হিসেবে এক বিঘায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ভালো ফলন ও পরিচর্যার মাধ্যমে পেঁয়াজের চাষ করা হলে এক লাখ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করা সম্ভব।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের শীতকালীন শস্য নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে পেঁয়াজের অস্থির বাজার রোধ করতেই সারা দেশে পেঁয়াজ চাষের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের পাবনা জেলার চলনবিল শীতকালীন মৌসুমে শুকিয়ে যাওয়া চরগুলোতে পেঁয়াজের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু ওই পেঁয়াজ দিয়ে সারা দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না।
দেশের জনগণ বেড়েই চলছে, সে কারণে সারাদেশের ন্যায় খাদ্যের জেলা দিনাজপুরেও পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে এবারে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে কৃষকদের উন্নতজাতের পেঁয়াজের বীজ সরবরাহ দিয়ে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী করে তোলা হয়েছে।
তিনি জানান, দিনাজপুর সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, খানসামা, বীরগঞ্জ, কাহারোল, চিরিরবন্দর ও বিরামপুর উপজেলায় এবারে পেঁয়াজের চাষ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে।
আশা করা যায়, এই জেলার চাষকৃত পেঁয়াজ দিয়েই জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় সরবরাহ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।