
নেত্রকোনা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর উপজেলা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ আরিফ, শিক্ষক নেতা বজলুল কাদের, জহির মোল্লা, রেজাউল করিম, উপজেলা উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার ও মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজুল হক, সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী জাহিদ আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন কোনো অতিরিক্ত সুযোগ নয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীরা বেতন বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন, যা তাদের জীবনমান ও কর্মস্পৃহায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অবিলম্বে এ বৈষম্য নিরসন করে অষ্টম ও নবম পে-স্কেল কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত বাস্তব কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে বক্তারা ঘোষণা দেন, আগামী ৩ তারিখের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে এরপর থেকে টানা তিন দিনের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান তারা।
কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও আন্দোলনকারীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা চত্বর।