
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর উদ্যোগে রংপুরের বুড়িরহাট আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে থ্রি আর জিন সমৃদ্ধ আলুর উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিষ্ট মো. হাসান ই-মোবারক।
সভাপতিত্ব করেন রংপুর বুড়িরহাট আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. কামরুল ইসলাম।
এতে বক্তব্য রাখেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রংপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ড. মো. মুজাহিদ-ই-রহমান, কৃষক মোছা. মেরিনা বেগম, মহুবর রহমান প্রমুখ।
মাঠ দিবসে বলা হয়, লেট ব্লাইট আলুর একটি অন্যতম প্রধান রোগ। এ রোগ দমনে মৌসুমে ৮-১২ বার পর্যন্ত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এ রোগের কারণে আলুর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ইউএসএইড এর একটি প্রকল্পের আওতায় মিশিগান স্টেট ইউসিভার্সিটি-র সহায়তার বন্য আলুর ৩টি জাত হতে জীন নিয়ে জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে এ আলুর লাইন তৈরি করা হয়। ইউএসএইড সহায়তা বন্ধ করে দিলেও বারি নিজস্ব অর্থায়নে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে রংপুর, গাজীপুর, মৌলভীবাজার, যশোর, হাটহাজারী ও মুন্সীগঞ্জ এই ট্রান্সজেনিক আলুর মাঠ পরীক্ষণ চলছে। পূর্বের ধারাবাহিকতায় এ বছর তৃতীয়বারের মতো মাঠ পরীক্ষা চলছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকদের রোগ নাশক ব্যবহারের পরিমাণ কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা মাঠে প্রদর্শিত আলুর ফলন গাছের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ জাতটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য অনুমোদন পেলে আলু উৎপাদনে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে প্রায় ষাট জন কৃষক-কিষানি ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের কৃষি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। মাঠ দিবসে নাবীধ্বসা বা লেট ব্লাইট প্রতিরাধী ট্রান্সজেটিক আলুর জাত প্রদর্শনী এবং এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।