
ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি শোরুম ও বিপণিবিতানে নতুন নতুন পোশাক তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। দোকান থেকে কেউ কেউ কেনাকাটা করে বের হচ্ছেন, কেউ প্রবেশ করছেন। অনেকে পছন্দের জামাকাপড় কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন। ফুটপাতে কেনাকাটা করছেন নিম্ন আয়ের লোকজন।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শহরের মার্কেটগুলো সরেজমিনে দেখা যায়, সমবায় নিউ মার্কেট সাপ্তাহিক ছুটি হওয়া সত্ত্বেও উপচে পড়া ভিড়।
এ ছাড়া শহরের প্রিন্স প্লাজা, আব্দুল্লাহ সিটি, বড় বাজার গলি, মুন সুপার মার্কেট ও বিগ বাজারসহ শহরের ছোট ছোট মার্কেট ও কাপড়ের দোকানগুলোতে কেনাকাটার ভিড় দেখা গেছে।
এবার ঈদে তরুণ ও শিশুদের জন্য বিশেষ ডিজাইনের টি-শার্ট, জিন্স ও পাঞ্জাবি রয়েছে। নারীদের জন্য পাকিস্তানি থ্রি-পিস, নতুন ডিজাইনের গাউন ও লেহেঙ্গা ছাড়াও শাড়ির মধ্যে রয়েছে প্রিন্ট শাড়ি, জামদানি, ঢাকাই বেনারসি, রাজশাহী সিল্ক এবং টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। এ ছাড়া পছন্দের শীর্ষে রয়েছে সুতি, জর্জেট, লিনেন ও বেনারসি শাড়ি।
সমবায় নিউ মার্কেটের শতরুপা’র স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান বলেন, রমজানের শুরু থেকেই খুব ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। বর্তমানে পাঞ্জাবি ও শার্ট-প্যান্টের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। দর্জিরা অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় এখন রেডিমেড পোশাকের দিকেই ঝুঁকছেন সবাই।
আব্দুল্লাহ সিটির আকিব বস্ত্রালয়ের কর্মচারী আল-আমিন জানান, গত ১০ রমজানের পর থেকেই বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। এখন দম ফেলার সময় নেই। এভাবে কেনাবেচা চলতে পারে রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত।
চুয়াডাঙ্গা বন্ডের ম্যানেজার রুহুল আমিন জানান, সকালে এবং সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। বন্ডে এরমধ্যে নতুন নতুন ডিজাইনের কালেকশন চলে এসেছে, যা তরুণদের আকর্ষণ করছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাবেচা বেশ ভালো।
তাসলিমা আক্তার নামে এক ক্রেতা বলেন, ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন। প্রতিটি জিনিসের দাম গত বছরের তুলনায় একটু বেশি মনে হচ্ছে। তবুও সন্তানদের খুশি রাখতে বাধ্য হয়েই বেশি দামে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। তবে এবার বেশ নতুন নতুন পোশাক এসেছে। দাম একটু বেশি হলেও সকলের জন্য পোশাক ক্রয় করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।
চুয়াডাঙ্গা রিচম্যানের ম্যানেজার ইউনুস হোসাইন বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রিচম্যানের নতুন নতুন কালেকশন এসেছে। তরুণদের আকর্ষণীয় পোশাক এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। জিন্স প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবির জন্য রিচম্যানের পণ্য সেরা।
সাদিদ হাসান নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, এ বছর পোশাকের দাম একটু বেশি। বাজেট কিছুটা কম থাকলেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে মার্কেটে এসেছি।
বিগ বাজারের কর্মচারী সরোয়ার বলেন, এটি চুয়াডাঙ্গার একটি সুপারমার্কেট যেখানে সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়। বিগ বাজারের দ্বিতীয় তলায় পোশাকের সমারোহ। প্রতিদিনই পোশাক ক্রয় করতে এখানে ভিড় করছেন শত শত ক্রেতা।
প্রিন্স প্লাজার এপি ফ্যাশনের ইয়াসিন আরাফাত আকাশ জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে। অনেকে জামা দেখে আবার চলে যাচ্ছেন। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, এবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি করতে পারব।
এদিকে, মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা দেখা গেছে। ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য পুলিশের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।