ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার পাশাপাশি রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ

বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার পাশাপাশি রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ

ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত চাকাই হাসপাতাল নামে পরিচিত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

এরপর সরকারের নানা উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ধাপে ধাপে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আন্তরিকতা এবং সেবা প্রদানে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের কারণে এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সুনাম।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব এবং জরায়ুর মুখ পরীক্ষার জন্য ভায়া স্ক্রিনিং পরীক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে পুরস্কার পেয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার লক্ষ্যে ফাঁকা জায়গাসহ আনাচে-কানাচে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগানোর ফলে পাল্টে গেছে এর দৃশ্য। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীসহ এলাকার মানুষের মন কেড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সেবা নিতে আসা রোগীদের মাঝে চারদিকে ফুলের বাগানের মৌ-মৌ গন্ধ স্বস্তির ছোঁয়া ছড়িয়ে দেয়।

ফাঁকা জায়গার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দাজুড়ে টবে সাজানো নানা রকম পাতাবাহারের গাছ রয়েছে। অপরদিকে হাসপাতালের অপরিত্যক্ত কিছু জায়গায় বপন করা হয়েছে নানা ধরনের শাকসবজির গাছ। সবকিছু মিলিয়ে মুগ্ধতার এক অপরূপ দৃশ্য, যা সত্যিই মন কাড়ার মতো।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন ও শিশুদের বিনোদনের জন্য নানাবিধ খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে একটি শিশু কর্নার। রোগী এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে আসা শিশুরা সেখানে কিছু সময় আনন্দে খেলায় মেতে ওঠে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর এলাকার মো. বাদশা মিয়া জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বেশ ভালো। সব সময় কক্ষগুলো পরিষ্কার রাখা হয়। এখানে সবচেয়ে ভালো লাগে ফুলের বাগানগুলো। সকালে ঘুম ভেঙে বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন ফুলের বাগানের দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। নিজেকে আর অসুস্থ মনে হয় না।

উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. বুলবুল নামে রোগীর এক স্বজন জানান, আমার প্রতিবেশী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। তাকে দেখতে এসে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি শুধু ফুল আর ফুল। নানা রং-বেরঙের ফুলে ঘেরা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বাড়ি ফেরার পথে আমি ফুলের বাগানে অনেকটা সময় কাটিয়েছি। তবে এখানে সূর্যমুখী ফুলের বাগানটি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. ফরিদ-বিন ইসলাম জানান, ২০২০ সালে সারা দেশের ৮টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাভাবিক নিরাপদ প্রসবের ক্ষেত্রে পুরস্কার পাই। ২০২২ সালে ভায়া স্ক্রিনিং পরীক্ষায় জাতীয়ভাবে আরও একটি পুরস্কার অর্জন করি, যেখানে আমরা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করি।

এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পুরস্কার প্রাপ্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে গর্বিত করেছে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক আগে থেকেই ফুলের বাগান ছিল। তবে এ বছর বাগান সম্প্রসারণ করে পুরো ক্যাম্পাসে বিস্তৃত করা হয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে, রোগীরা যখন সেবা নিতে আসে, তখন তারা প্রথমে দেখে সেবার মান এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ মনোরম কি না।

তিনি আরও বলেন, মানুষ অসুস্থ হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। শুধু পথ্য দিয়ে তাদের সুস্থ করা গেলেও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে হলে মনোরম পরিবেশের প্রয়োজন আছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজ সুলতানা বলেন, সুস্থ দেহের পাশাপাশি সুস্থ মনও প্রয়োজন। আমরা শুধু দেহ সুস্থ রাখার চেষ্টা করি না, বরং রোগীদের মানসিক সুস্থতাও ধরে রাখতে চাই। সেই লক্ষ্যেই এই বাগান তৈরি করা হয়েছে।

একজন রোগী যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে ফুল ও সবুজের সমারোহ দেখে, তাহলে তার মনে ইতিবাচক অনুভূতি জন্মায়। এতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। আমাদের এই উদ্যোগ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ,চিকিৎসার পাশাপাশি,বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত