
রংপুর মহানগরীতে অতিদরিদ্র পরিবারের পারিবারিক আয় বৃদ্ধি লক্ষ্যে শর্তসাপেক্ষে নগদ অর্থ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে আজিজনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রংপুর এরিয়া প্রোগ্রামের আয়োজনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রংপুর সদর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাহাবুবুর রহমান বেলাল।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রংপুর এরিয়া প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার উত্তম দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রোগ্রাম অফিসার বার্নাড কুজুর। এ সময় শর্তসাপেক্ষে অর্থ সহায়তা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি তুলে ধরেন প্রোগ্রাম কোয়ালিটি স্পেশালিস্ট মো. শাহ কামাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজিজনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন কুমার সরকার এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ফরহাদ হোসেন মন্ডল।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিসিটির সভাপতি মো. নওশাদ হোসেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রংপুর ও নীলফামারী এসিও, কোয়ালিটি স্পেসালিস্ট-(স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ওয়াশ) পল্লব কান্তি রায়, ২৭নং ওয়ার্ড রজনীগন্ধা উইএনডিসির সভাপতি সুমি আক্তারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
উপকারভোগীদের মধ্যে সোমা আখতার টুম্পা ও বৃষ্টি আখতার তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ কর্মসূচির আওতায় রংপুর মহানগরীর ৭টি ওয়ার্ডের মোট ১৭৯ জন অতিদরিদ্র পরিবারকে শর্তসাপেক্ষে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়, যা তাদের উৎপাদনশীল কাজে বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
কার্যক্রমের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া: ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জানায়, নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার নির্বাচন করা হয়। স্থানীয় নগর উন্নয়ন কমিটি ও প্রতিনিধিদের সহায়তায় প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং পরবর্তীতে জরিপ ও যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রতিটি উপকারভোগীর জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদান নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উপকারভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড:
এ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এমন পরিবারগুলোকে, যারা জাতীয় দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে, যাদের আয় ও সম্পদ সীমিত, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যাদের পরিবারে শিশু, প্রতিবন্ধী সদস্য, গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মা রয়েছে। এছাড়াও নারী প্রধান পরিবার, শিশুশ্রমে জড়িত পরিবার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।