
নীলফামারীর জলঢাকায় কোনো টেন্ডার বা কমিটির রেজুলেশন ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে নেয়া সেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার সিংড়িয়া বালাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
এর আগে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় চত্বরে থাকা প্রথমে একটি বড় আম গাছ কেটে ফেলেন শ্রমিকরা। পরে পাশে থাকা আরও দুটি আম গাছের গোড়ার মাটি সরিয়ে গাছ কাটার প্রস্তুতিকালে এলাকাবাসীর তোপের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শ্রমিকরা সটকে পড়েন।
এলাকাবাসী জানায়, স্কুল বন্ধের দিন এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঈদের আগের দিন গাছ কাটায় আমাদের সন্দেহ হলে আমরা প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করি, তিনি আমাদের প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়েই গাছ রেখে সটকে পড়েন। পরদিন শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন বিকেলে কেটে ফেলা বড় আম গাছটি নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।
এ নিয়ে গত ২২ মার্চ ‘ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে স্কুলের গাছ কেটে নিলেন প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। বিনা অনুমতিতে স্কুলের গাছ কাটার অপরাধে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ওই প্রধান শিক্ষককে নোটিশ প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। আগামী ৩ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক এক সদস্য জানান, “আমাদের স্কুলে ১৫/১৬ টি বড় গাছ ছিল, নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই একে একে সব গাছই বিক্রি করে দিয়েছেন। সঠিক তদন্ত হলে সব বের হয়ে যাবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “গত শুক্রবার ওই স্কুলের গাছ কাটার বিষয়টি আমি জানতে পারি, বিনা অনুমতিতে গাছ কাটায় আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ওই প্রধান শিক্ষককে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”