
সিরাজগঞ্জে এবার স্ট্রবেরি ফল বাগান চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ফলের বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। লাভজনক এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে এ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
কৃষি বিভাগ বলছে, এ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শস্যভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে এ সুস্বাদু ফল বাগান চাষ হয়েছে এবং এ জেলার কাজিপুর, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ সদর ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ৪ হেক্টর জমিতে এ ফল বাগান চাষ হয়েছে।
বাগান চাষীরা বলছেন, রাজশাহী, জয়পুরহাট, চাঁপাই ও যশোর থেকে এ চারা সংগ্রহ করতে হয় এবং নভেম্বর মাসের মধ্যেই এ স্ট্রবেরি ফলের চারা রোপণ করা হয়। বিশেষ করে উঁচু, দোআঁশ ও বালি জাতীয় জমিতে এ চাষাবাদ ভালো হয় এসব চারার মধ্যে রয়েছে দেশি ও হাইব্রিড জাতের। এ ফল চাষাবাদে জমির ১ হাত পরপর উঁচু আকার সৃষ্টি করতে হয় এবং এ উঁচুতেই ফলের চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ৩ মাস পর এ বাগানে ফল উৎপাদন শুরু হয় এবং এ বাগানের আয়ু প্রায় ৬ মাস। পরবর্তীতে আবার নতুন করে এ ফল বাগান শুরুতে হয়।
এবার এ ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। খরচ কম লাভ বেশি এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকেরা। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বোয়ালিয়া পাগলা মন্ডলপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক জহুরুল ইসলাম (৬১) প্রায় ১৫ বছর ধরে লাভজনক এ ফল বাগান চাষ করেছেন। এবার তিনি প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে দেশি ও হাইব্রিড জাতের স্ট্রবেরি ফল বাগান চাষ করেছেন। প্রতিদিন ৪/৫ জন শ্রমিক এ বাগান পরিচর্যা করছে এবং পাখির উপদ্রব ঠেকাতে নেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। জানুয়ারি মাসের শেষদিকে এ বাগান থেকে ফল উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রথমে এ ফল ১ হাজার টাকা কেজি এবং পরে ৮০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি করে। বর্তমানে ৫০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। বেশির ভাগ তার বাগান থেকেই পাইকারীরা এ ফল ক্রয় করে নিয়ে যান। ইতোমধ্যেই খরচ বাদে প্রায় ৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা হয়েছে এবং আরো প্রায় ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এ বাগান চাষে আমার ছেলে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার গোলাম সরোয়ার যথানিয়মে পরামর্শ দিয়ে থাকে এবং তার পরামর্শে এলাকার অনেক কৃষক এ ফল বাগান চাষ শুরু করেছে। আগামীতে লাভজনক এ চাষাবাদ আরো বাড়বে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ চাষাবাদ জেলার উল্লাপাড়াতে বেশি হচ্ছে। অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানসহ চরাঞ্চলেও এ চাষাবাদ করছে কৃষকেরা। এ লাভজনক চাষাবাদ হওয়ায় কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং এ চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।