ঢাকা বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পেনশনের টাকা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু

পেনশনের টাকা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু

চাকরি থেকে অবসরের দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামে পেনশনের টাকা না পেয়ে অর্থের অভাবে নিদারুণ কষ্টে, অবহেলা ও অবজ্ঞায় পরিশেষে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন গোলজার হোসেন নামে এক কলেজ কর্মচারী।

মৃত গোলজার হোসেন কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অফিস সহায়ক পদে কলেজের জন্মলগ্ন থেকে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি গত ১২ জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হন।

এরপর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড বরাবর গত ২৪ আগস্ট তারিখে অবসরের টাকার জন্য আবেদন করেন। যার ইনডেক্স নং (৬০৭৭২৪) এবং আবেদন আইডি নং (ই-৮৯৫২৯৬০৯৬), এনআইডি নং (৩৭০৬৪২১৯৯১)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অবসরে যাওয়ার পর তিনি অন্ধ ও বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ ৬ বছর যাবত অবসরের টাকা না পেয়ে চিকিৎসা ও খাবারের অভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে নিজ বাড়িতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তার স্ত্রী মোছাঃ জাহানারা বেগমও দীর্ঘ দেড় বছর ধরে হার্ট স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। বড় ছেলে বাসের হেলপার এবং ছোট ছেলে ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আর মেয়েদুটির বিয়ে হলেও তাদের স্বামীরাও কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

বর্তমানে মেয়ে দুটি স্থানীয় জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরিতে বিড়ি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করছে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে তাদের ১০ জনের সংসারের ব্যয়ভার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মৃত গোলজার হোসেন কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন স্টেশন পাড়ার মৃত অজর মামুদ ও মৃত গোলজন বেগমের ছেলে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

এলাকাবাসী মো. লিমন হোসেনসহ অনেকেই বলেন, মৃত গোলজার হোসেন একজন খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি অবসরের টাকা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে মারা যান। এই অবসরের টাকা পেলে হয়তো তিনি এখনো বেঁচে থাকতেন।

বর্তমানে টাকার অভাবে তার পরিবারেরও বেহাল অবস্থা, দেখার কেউ নেই। অতি কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। অবসরের টাকাটা পেলে হয়তো পরিবারটি বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কিছুটা রক্ষা পাবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ যেন এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়—এটাই প্রত্যাশা প্রতিবেশীদের।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ আলী বলেন, মৃত গোলজার হোসেন কলেজ শুরুর ১৯৮৫ ইং সাল থেকে কলেজের পিয়ন পদে চাকরি করেছিলেন এবং ২০২০ সালে অবসরে যান। এরপর কল্যাণ ও অবসরের টাকার জন্য আবেদন করেন।

দুঃখজনকভাবে কিছুদিন আগে জানতে পারি, তিনি মারা যাওয়ার আগেই কল্যাণের টাকা পেলেও অবসরের টাকা এখনো পাননি। আমি কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করছি। আগামী সপ্তাহে ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু,বিনা চিকিৎসা,পেনশনের টাকা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত