
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ‘তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা’—এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান ও ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা পরিষদের নিজ কার্যালয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন প্রশাসক সেলিম।
উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সময় তিনি ‘তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা’ বলে মন্তব্য করেন। ভিডিওটির একটি অংশ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে জুলাইয়ের প্রতি অবমাননা বলে মন্তব্য করেন, আবার কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থনও জানান।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সেলিম জানান, গত ১৬ এপ্রিল অফিস চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি তার কক্ষে প্রবেশ করে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে আর্থিক অনুদান দাবি করেন। তিনি তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের দাবির পক্ষে কোনো গেজেট বা প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং তারা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। তখনই তিনি তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন—প্রমাণ ছাড়া কীভাবে তারা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করছেন।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ একটি নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা মেনেই পরিচালিত হয়। নিয়মের বাইরে গিয়ে কাউকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে সেলিমের দাবি, পুরো ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আংশিকভাবে ধারণ ও প্রচার করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিডিও ধারণ করে সেটির খণ্ডিত অংশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারি দপ্তরের তথ্যব্যবস্থার নীতিমালার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ‘বটবাহিনী’ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো একটি অসৎ উদ্দেশ্যের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।