
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় সালাম নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দুটি পৃথক ধারায় দণ্ডিত করা হয়েছে আসামিকে। এর মধ্যে ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৭ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত সালাম (২১) দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার বজলুর রশিদের ছেলে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ১০ম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং জাল কাবিননামা তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত শেষে এসআই হারুন অর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মেডিকেল প্রতিবেদনে ধস্তাধস্তির স্পষ্ট চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম এবং সম্মতিবিহীন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
তদন্তে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে অন্য আসামি বজলুর রশীদ মজু, মনোয়ারা বেগম ও জালাল ওরফে শাহজালালকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে দায়মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক বার্তা যাবে।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কঠোর পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।