ঢাকা শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঈশ্বরদীর বাজারে উঠেছে অপরিপক্ব লিচু, চড়া দামে বিক্রি

ঈশ্বরদীর বাজারে উঠেছে অপরিপক্ব লিচু, চড়া দামে বিক্রি

সুমিষ্ট ও রসালো হওয়ায় সারাদেশে ঈশ্বরদীর লিচুর সুনাম রয়েছে। সেই সুনামকে কাজে লাগিয়ে কিছু লিচু চাষি বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু গাছ থেকে পেরে বিক্রি করছেন। অপরিপক্ব লিচুই বিক্রি হচ্ছে ঈশ্বরদী বাজার ও আশেপাশের হাট-বাজারে। তবে শহরে ও গ্রামের বাজারে দামের পার্থক্য রয়েছে। ক্রেতারা ভালো-মন্দ বিবেচনা না করে নতুন ফল হিসাবে চড়া দামে কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

‘লিচুর রাজধানী’ বলে খ্যাত ঈশ্বরদীতে মধু মাস (জ্যৈষ্ঠ) শুরু হওয়ার আগেই বৈশাখ মাসে অপরিপক্ব লিচু বাজারে আসছে। তবে লিচু চাষিরা বলছেন, টানা দাবদাহের কবলে পড়ে লিচু ঝরে যাচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, এইটুকু ঝরে যাওয়া স্বাভাবিক। কিছু চাষি বেশি লাভের আশায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই লিচু বিক্রি করে দিচ্ছেন। এসব অপরিপক্ব লিচু স্বাদহীন ও টক হওয়ায় ভোক্তারা আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাজারে প্রথম লিচু উঠায় দাম অনেক চড়া। দেশি মোজাফফর জাতের ১০০ পিস (এক ঝোপা) লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকায়। পৌর শহরের বাজারে ক্যারেটে অপরিপক্ব লিচু সাজিয়ে গামছা দিয়ে ঢেকে রেখে সামনে কিছু লিচু দেখিয়ে এক ঝোপা (১০০টি) ৩৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই দিনে উপজেলার আরামবাড়িয়া বাজারে এই লিচু বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়।

ক্রেতা জাবেদ মিয়া জানান, বাজারে নতুন ফল উঠেছে। যদিও এখনো সম্পূর্ণভাবে পাকেনি, তবুও বাড়ির ছোট মেয়ে পাপিয়ার জন্য নতুন বলে বেশি দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা অপরিপক্ব লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, লিচুর গুণগতমান ঠিক রাখতে আরও কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন পর মোজাফফর জাতের লিচু সংগ্রহ করতে হবে। এবছর ঈশ্বরদীতে ব্যাপক মুকুল ও গুটি এসেছে। লিচু চাষিরা গুটি ঝরে যাওয়ার কথা বললেও কৃষি বিভাগ তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, লিচুর গুণগত মান ধরে রাখতে কমপক্ষে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন পর লিচু বাজারজাত করা উচিত। অপরিপক্ব লিচু খেলে ভোক্তারা পুষ্টিমান ও স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন, পাশাপাশি ফলের আকার ও ওজনও কম থাকে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঈশ্বরদীতে এবারে প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে মোজাফফর, বোম্বাই, চায়না-থ্রি ও অন্যান্য জাতের লিচু উৎপাদিত হয়, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, এখন পর্যন্ত লিচুতে পর্যাপ্ত গুটি রয়েছে। এ বছর ভালো ফলন হবে এবং বাগান মালিকরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

চড়া দামে বিক্রি,অপরিপক্ব লিচু,ঈশ্বরদীর বাজারে
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত