
কক্সবাজারের টেকনাফে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোহাম্মদ উল্লাহ (১৯) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৪ মে) রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ২৪ নম্বর অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের সি-২ ব্লক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ উল্লাহ ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আবদুল করিমের ছেলে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মোহাম্মদ উল্লাহ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন টিটিপির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে লেদা ক্যাম্পে তার বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি কালো রঙের ‘মটো জি৭৩ ৫জি’ মডেলের মোবাইল ফোন (দুটি আইএমইআই নম্বরসহ) এবং ব্যবহৃত সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা তরুণের ব্যবহৃত নম্বরটি ‘হাকিকত নিউজ’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রুপটি দুইজন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নেতা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া মোহাম্মদ উল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়াতুল্লাহ বিডি’ ওরফে ‘আহম্মেদ’ নামে পরিচিত ছিলেন। ওই গ্রুপের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যোগাযোগ চালানো হতো বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অজ্ঞাত সহযোগীদের সহায়তায় তিনি এসব প্রচারসামগ্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছড়িয়ে দিতেন। তিনি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার ছাত্র সংগঠন ও সামরিক শাখার সঙ্গেও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ উল্লাহ ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৯/১৩ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা হয়।