ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সেতুর সংযোগ সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

সেতুর সংযোগ সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও বরগুনার বেতাগী উপজেলার সংযোগস্থলে নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের ডোকলাখালি বাজার এবং বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নের জলিশা বাজারের মধ্যবর্তী বেড়েরধন খালের ওপর এই সেতুটি অবস্থিত। ব্যস্ততম এই সড়কের মাঝখান থেকে খুঁটিটি দ্রুত অপসারণ না করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জাইকার (JICA) অর্থায়নে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সেতুটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। ৬ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৭ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এনায়েত এন্টারপ্রাইজ’।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার চার বছর আগে কাজ শুরু করলেও এখনো তা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। মূল সেতুর কাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হলেও সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) কাজ এখনো চলমান রয়েছে। কাজের এই ধীরগতির কারণে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিয়ে ইতঃপূর্বে দেশের প্রথম সারির একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি সংযোগ সড়কের কাজ পুনরায় শুরু হলেও সড়কের ঠিক মাঝখানে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটি না সরিয়েই সেখানে ইট বিছানো এবং রোলার দিয়ে মাটি ও খোয়া সমান করার কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম এই সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে খুঁটিটি বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সেতুর উভয় পাড়ে রয়েছে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ব্যাংক, দুটি বৃহৎ হাট-বাজার এবং বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ওই এলাকার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মোতালেব হাওলাদার সহ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ চার বছর ধরে আমরা যাতায়াতে কষ্ট পাচ্ছি। এখন কাজ শুরু হলেও সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখে দেওয়ায় এটি একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত গাড়ি চলাচল শুরু হলে এখানে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনায়েত এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী এনায়েত হোসেন বলেন, “সেতুর প্রাক্কলনে (এস্টিমেট) এই বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি।”

মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের দপ্তর থেকে সড়কের মোট ২৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য এক ঠিকাদারের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে, যার মধ্যে সড়কের মাঝখানের এই খুঁটিটিও রয়েছে। অতি শীঘ্রই খুঁটিটি সরানো হবে।”

তবে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় সাব-জোনাল অফিসের ম্যানেজার পলক সাহা জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “খুঁটিটি সরানোর জন্য আমরা আবেদন পেয়েছি। কিন্তু এলজিইডি কর্তৃক নির্ধারিত স্থানান্তর ফি (খরচ) জমা না দেওয়ার কারণে এটি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। নিয়মানুযায়ী অফিস খরচ জমা দিলেই আমরা দ্রুত খুঁটিটি সরিয়ে নেব।”

সেতু,সংযোগ সড়ক,বৈদ্যুতিক খুঁটি,দুর্ঘটনার ঝুঁকি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত