
যশোর ব্যাটালিয়নের বিশেষ অভিযানে বিষাক্ত জেলি মেশানো বিপুল পরিমাণ চিংড়ি মাছ জব্দ করেছে বিজিবি। জব্দ করা মাছের মধ্যে গলদা, বাগদা ও হরিণা জাতের চিংড়ি ছিল।
গত ১৫ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল জানতে পারে, কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী জেলি মেশানো চিংড়ি মাছ ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী চিংড়ি বোঝাই চারটি ট্রাক আটক করা হয়। পরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, খামার ব্যবস্থাপক ও মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তার সমন্বয়ে মাছ পরীক্ষা করে ১ দশমিক ১ টন বা ১ হাজার ১০০ কেজি গলদা, বাগদা ও হরিণা চিংড়িতে ক্ষতিকর জেলি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়।
জব্দ করা চিংড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকা। পরে জেলি মেশানো মাছ ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ট্রাক মালিকদের মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্য এক অভিযানে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকা থেকে ৯টি শাড়ি, ৪টি থ্রি-পিস, ৪টি টু-পিস, ৫০০ গ্রাম জিরা, ১ প্যাকেট ফুসকা, ২৪১টি চকলেট ও ৩৬টি প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করেন। উদ্ধার করা এসব পণ্যের মোট মূল্য ১২ লাখ ৩ হাজার ২০০ টাকা।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, চিংড়ি মাছে বিষাক্ত জেলি মেশানো গুরুতর অপরাধ এবং এটি প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দ করা মাছ ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী কার্যক্রম ঠেকাতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।