অনলাইন সংস্করণ
১১:০৪, ২২ মে, ২০২৬
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে জিল্লুর রহমান (৫০) নামে এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার দাশমরিচ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত জিল্লুর রহমান দাশমরিচ গ্রামের বাসিন্দা এবং খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি। তিনি পেশায় শিক্ষক।
অভিযুক্ত আব্দুর রহমান (২৫) কালিয়ানজিরি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। জামায়াতের দাবি, তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী।
ঘটনার খবর পেয়ে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলী আছগার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানা চত্বরে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আবুল কালাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জিল্লুর রহমানকে দেখে আব্দুর রহমান কটূক্তি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে থাকা একজন আব্দুর রহমানকে দুটি চড় মারেন।
এই ঘটনার জেরে দুপুরে আব্দুর রহমান ৮ থেকে ১০ জনকে নিয়ে জিল্লুর রহমানের বাড়িতে যান বলে অভিযোগ। সেখানে তারা প্রথমে তার মাকে মারধর করেন। পরে জিল্লুর রহমানকে খুঁজতে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়েও যান হামলাকারীরা। সেখানে তাকে না পেয়ে রাতে রাস্তায় পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
স্থানীয়রা আহত জিল্লুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ভাঙ্গুড়া থানায় যান সংসদ সদস্য আলী আছগার। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, “আমার নেতা রক্তাক্ত কেন? প্রশাসনের জবাব চাই।”
অন্যদিকে খানমরিচ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ছাত্রদল বা বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে স্থানীয় এক জামায়াত কর্মী পরকীয়ার ঘটনায় গণপিটুনির শিকার হওয়ার বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিউল আযম জানান, আহতের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার বলেন, তার নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তাই দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি থানায় গিয়েছেন।