অনলাইন সংস্করণ
১৬:০৩, ২২ মে, ২০২৬
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিপক্ষে যুদ্ধে গিয়ে সুরুজ কাজী (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি রুশ সেনাদের একটি যুদ্ধক্ষেত্রের ক্যাম্পে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনার পর তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সুরুজ কাজী মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগছড়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় নয় মাস আগে প্রতিবেশী এলেন মাতুব্বরের ছেলে দুলু মাতুব্বরের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি রাশিয়ায় যান। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে মাসে ৮০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছিলেন তিনি। পরে চলতি মাসে দালালদের প্রলোভনে পড়ে বেশি বেতনের আশায় রুশ সেনাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউক্রেনের বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ নেন।
যুদ্ধক্ষেত্রের একটি ক্যাম্পে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করার সময় সম্প্রতি সেখানে মাইন বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক ফোনে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দালাল দুলু মাতুব্বর ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন বোন শারমিন আক্তার। কান্নায় অচেতন প্রায় মা নুর জাহান বেগম এবং নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা সাহাবুদ্দিন কাজী।
নিহতের বাবা সাহাবুদ্দিন কাজী বলেন, “আমার ছেলে এভাবে মারা যাবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমি দালালদের বিচার চাই এবং দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।”
বোন শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা তাকে বিদেশ যেতে নিষেধ করেছিলাম। দালালদের প্রলোভনে পড়ে সে বিদেশ যায়। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ হারাল। আমরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত চাই।”
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”