
পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলের কামারপাড়ায় আগুনের কুণ্ডলিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারশিল্পীরা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য দা, ছুরি, কাটারি ও বঁটির চাহিদা বেড়েছে। এ চাহিদা মেটাতে দিনরাত কাজ করছেন কামারশিল্পীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কোরবানির পশু জবাইয়ের এসব ছুরি-দা তৈরির হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে পুরোনো ছুরি, দা ও কাটারি মেরামত করা হচ্ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের কামারপাড়ায় কয়লা জ্বালিয়ে আগুনের কুণ্ডলিতে হাপরের বাতাসে লাল হয়ে ওঠা লোহা হাতুড়ির আঘাতে রূপ নিচ্ছে ধারালো দা, ছুরি ও বঁটিতে। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কামারপাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারকর্মীরা।
স্থানীয় কামারশিল্পীরা বলছেন, এবার ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় ছুরি, ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় দা এবং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বঁটি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পশু জবাইয়ের ছুরি দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ছোটখাটো চাকু ও দা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। লোহা, কয়লা, কাঠের হাতলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম ও কর্মীদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ছুরি, দা, কাটারি ও বঁটির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলার সলঙ্গা, বোয়ালিয়া, পাঙ্গাসী, চান্দাইকোনা, সাহেবগঞ্জ, হাটিকুমরুল, তালগাছি, লাহেড়ি মোহনপুর, ওমরপুর, নওগাঁ, রানীরহাট, এনায়েতপুর, সোহাগপুর, বহুলী, শিয়ালকোল, নাটোয়ারপাড়া, ছোনগাছা, কান্দাপাড়া, নলকা হাট ও জেলা-উপজেলা শহরাঞ্চলের কামারপাড়ায় এসব ছুরি-দা তৈরি ও মেরামতের হিড়িক পড়েছে। গ্রামাঞ্চলের কামারপাড়াতেও ভিড় জমেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর নতুন দা-ছুরির চাহিদা কিছুটা কম।
তারা আরও বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
বহুলীর তালতলার অস্থায়ী বাজারের কামারশিল্পী ছোলেমান (৫৮) বলেন, “প্রায় ২৫ বছর ধরে এ কাজে জড়িত আছি। প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে ছুরি, কাটারি ও দা তৈরি এবং মেরামত করে থাকি। এবার কিছুটা মজুরি বেশি পেলেও বাজার খরচে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
এদিকে, প্রতিবছর ঈদের আগে কামারশিল্পীদের সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে এ কামারশিল্প প্রতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে উঠবে বলে বিশিষ্টজনেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।