ঢাকা রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঈদে নৌ-পথে নিরাপত্তায় কাজ করছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন

ঈদে নৌ-পথে নিরাপত্তায় কাজ করছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছেন ভোলার কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।

রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় ভোলার ইলিশা লঞ্চ ঘাটে পরিদর্শন শেষে এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান জোনাল কমান্ডার দক্ষিণ জোন এর এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বিএন, (সি) ক্যাপ্টেন মো. আরিফ হোসেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূল এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং নৌপথের নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল, যৌথ এবং সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে এ বাহিনী।

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী চলাচল ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। এ উপলক্ষ্যে দক্ষিণ জোন আওতাধীন ভোলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর, চৌমূহনী, লক্ষীপুরের মজুচৌধুরীর হাট, আলেকজান্ডার, বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানীয়া, পুরাতন হিজলা, পটুয়াখালীর আলীপুর, পটুয়াখালী, কালাপাড়া, বাউশিয়া, নোয়াখালীর তমরুদ্দি, রাম নেওয়াজ এবং বরগুনা জেলার কাকচিড়াসহ পাথরঘাটার গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ, ফেরি ঘাটসমূহে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার এবং যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায় কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ কন্ট্রোল রুমে কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি কর্তৃক সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি, যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিংসহ বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়াও চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধসহ গরু, মহিষসহ অন্যান্য কোরবানির পশু চোরাচালান দমন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশুর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক টহল টিম ও উচ্চগতি সম্পন্ন বোট মোতায়েন রয়েছে। যার মাধ্যমে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিরাপদ থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।

পাশাপাশি, অতিরিক্ত যাত্রী বহনজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিশেষ টহল, জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নৌযানে অবস্থানরত যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়াও দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক লঞ্চঘাটের নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে যেমন খেয়া পারাপারের ছোট বোট বা ট্রলারযোগে যাত্রী ওঠানামা প্রতিরোধে আমরা বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি তিনি বলেন— অনুরোধ করবো, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা নিতে কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করুন।

তিনি আরো জানান, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দেশবাসী যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের নিরাপদে কর্মস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বদ্ধপরিকর এবং জনগণের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

ঈদ,নৌ-পথ,নিরাপত্তা,কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত