
সিরাজগঞ্জে লোভনীয় অফার দিয়ে শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক ‘জীনের বাদশা’ আব্দুল হামিদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতারক আব্দুল হামিদ অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার লোভনীয় অফার দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে আসছিলেন। এ টাকা নেওয়ার পর ওই অ্যাপস বিশেষ কৌশলে ডিজেবল করে দিতেন।
প্রতারিত গ্রাহকেরা অ্যাপসে ঢুকতে না পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবার নতুন অ্যাপসে ইনভেস্ট করার অফার দিতেন। এমন কৌশলে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে পুনরায় অ্যাপসগুলো ডিজেবল করে প্রতারণা করে আসছিলেন।
একপর্যায়ে গ্রাহকরা এমন প্রতারণা বুঝতে পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি একটি আইডি থেকে নিজেকে ‘জীনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। এমন কৌশলে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে সোমবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মমতাজ বেগম নামে এক নারী প্রতারক আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ‘ইকো ভোল্ট’ নামক একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসে ডিপোজিট করলে অনেক টাকা লাভ পাওয়া যাবে— এমন লোভনীয় অফার দিয়ে বাদী মমতাজ বেগমের মাধ্যমে ১০০ জন গ্রাহক সংগ্রহ করেন। একপর্যায়ে বাদিনীর মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন ওই প্রতারক। পরে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ‘সিইএফ’ নামক একটি ভুয়া অ্যাপসে টাকা ইনভেস্ট করতে বলেন আব্দুল হামিদ। এভাবে আরও ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
গত ২ মে বাদী মমতাজ বেগমসহ অন্যান্য গ্রাহক তার ‘ইকো ভোল্ট’ অ্যাপসে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখেন অ্যাপসটি সাদা হয়ে গেছে। পরে ‘সিইএফ’ নামক নতুন অ্যাপসে বেশি বেশি ইনভেস্ট করার জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দেন হামিদ। এভাবে বাদিনী ও অন্যান্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আরও ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়টি পুলিশ সুপার সাইফুল সানতুকে অবহিত করা হলে তার নির্দেশে আসামি হামিদকে গ্রেপ্তারে সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে বনবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ওয়ালটন ট্যাব, একটি স্মার্টফোন এবং প্রতারণামূলক অ্যাপস-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।