
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক ও গাড়িচালকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে হামলা, মারধর, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২৬)। তিনি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) এবং তার শ্যালক।
মামলায় জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারপাড়ার মোস্তাক হোসেন, হাসাদাহ গ্রামের রিমন হোসেন এবং পুরন্দরপুর গ্রামের মাশরুল মুহিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক একটি গাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক একই গাড়িতে করে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে কর্মসূচি শেষে জীবননগরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারের প্রধান সড়কে ওঠার সংযোগস্থলে একটি ইজিবাইক রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের গাড়ির গতি থেমে যায়।
বারবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি সরানো হয়নি। পরে গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন নিচে নেমে ইজিবাইক চালককে গাড়ি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু বক্কর সিদ্দিক গাড়ি থেকে নেমে ইজিবাইক চালককে চলে যেতে অনুরোধ করেন। এ সময় হঠাৎ করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়ে তাদের পথরোধ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মোস্তাক হোসেন প্রথমে বাদীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। পরে রিমন হোসেন তার বাম চোখের নিচে ঘুষি মারেন এবং মাশরুল মুহিব নাকের ওপর আঘাত করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক ও গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং খুন-জখমের হুমকি দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনার পর আহতরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে সংসদ সদস্যের স্ত্রী তামান্না সুলতানা তানি, মনিরা সুলতানা সনি এবং ইমরান হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি অনেক স্থানীয় ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।