
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজ এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনী (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে। এর আগে সোমবার দুপুর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী রঞ্জিত চন্দ্রের ছেলে বিধান চন্দ্রকে (২৩) আটক করা হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিধান চন্দ্রের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। আগুনে বাড়ির কয়েকটি ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পরিস্থিতির মুখে পরিবারের সদস্যরা অন্য একটি ঘরে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও উত্তেজিত জনতা বাড়িটি ঘিরে রাখে। থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রথম দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) গাড়িসহ কয়েকটি যানবাহনের কাচ ভাঙচুর করে। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরে দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা লোকজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লিখিত অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর থেকে নন্দিনীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। পরে রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করে খোঁজ চালিয়ে যেতে বলে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা নলিনী কান্ত।
মঙ্গলবার সকালে পুনরায় খোঁজাখুঁজির সময় বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে একটি বস্তার ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে এবং অবরুদ্ধ লোকজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিধান চন্দ্রকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।