
সিরাজগঞ্জে সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে উৎপাদিত বাচ্চা কিনে এলাকার প্রান্তিক মুরগি খামারিদের মধ্যে বেশিরভাগের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। কম দামে এ মুরগির বাচ্চা কিনে লালন-পালনের মাধ্যমে তাদের এই স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। ওই সরকারি খামারের ম্যানেজার মো. বাহালুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, উক্ত সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে বর্তমানে ১৫৮৩টি (সোনালী) মুরগি রয়েছে এবং ১৮৯টি মোরগ রয়েছে।
এ খামারে বর্তমানে ১৯৮৫টি বাচ্চা রয়েছে। এ বাচ্চা ক্রমাগতভাবে এলাকার প্রান্তিক মুরগি খামারিদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মহিলা খামারিরাই এসব বাচ্চা বেশি ক্রয় করে থাকেন।
চলতি অর্থবছরে ১ লাখ বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সেখানে উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার বাচ্চা। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় সাড়ে ৪০০ জন প্রান্তিক খামারির কাছে সরকারি মূল্যে ১৫ টাকা হারে এসব বাচ্চা বিক্রি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ টাকার বাচ্চা বিক্রি হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই সরকারি রাজস্ব তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে একজন ম্যানেজারসহ ১৭ জন কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজারসহ মাত্র ৬ জন কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম চলছে। জনবল সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দিনরাত কাজ করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বাচ্চা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত জনবল থাকলে উৎপাদন আরও বাড়ানো যেত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে খামারের হ্যাচারি ও অপারেটর বিভাগে আবুল কাশেম মোল্লাসহ আরও অন্তত ৩ জন কর্মচারী প্রয়োজন। জনবল সংকটের কারণে খামারি মুরগি লালন-পালনে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে, তবে ১৭ জনের কাজ ৬ জনকেই করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনবল সংকটের বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। তবে আগামী ২/১ মাসের মধ্যে এ সংকট নিরসন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।