
বৈরী আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল থাকায় টানা ছয় দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন। দ্বীপের খাদ্যদ্রব্যসহ প্রয়োজনীয় সব পণ্য টেকনাফ থেকে সরবরাহ করা হয়। ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দ্বীপে খাদ্যসংকট দেখা দেয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ২ জুলাই সকাল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে সার্ভিস ট্রলার চলাচল করেনি। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত থাকায় এ নৌপথে যাত্রী পরিবহনসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সেন্টমার্টিন রুটের নৌযানের টিকিট বিক্রেতা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সংকেত কেটে গেলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হবে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিনের উভয় পাড়ে প্রচুর যাত্রী আটকা পড়েছেন।’
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এই নৌপথে ২৬টি ট্রলার চলাচল করে। দৈনিক রোটেশনে দুই থেকে তিনটি ট্রলার চলাচল করে থাকে। সেগুলোও এখন বন্ধ রয়েছে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত ছয় দিন ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন। প্রতিবছর জুন-জুলাই মাসে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন, ‘এ সময়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা হয়েছে। পাশাপাশি শাহপরীর দ্বীপে অবস্থানরত কোস্টগার্ডের একটি বড় ট্রলার সেন্টমার্টিনে এলে সেটিতে করে পরীক্ষার্থীদের টেকনাফে আনার ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়েও কোস্টগার্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবস্থানরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’