অনলাইন সংস্করণ
১৬:৩৬, ০৭ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। সম্ভাব্য নেতাদের সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করছে দলের হাইকমান্ড।
নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, এবারের কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই পদে থাকা নেতাদের নতুন কমিটিতে না রাখার সম্ভাবনা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।
সংগঠনের একাধিক নেতার দাবি, সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন, পুরোনো এবং দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া আলম মামুন।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহী। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পেলেও এবারের কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় থাকতে পারেন।
কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাকারিয়া আলম মামুন বলেন, “সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং জেল-জুলুম, নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসবে বলে আশা করি। সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তার যে সিদ্ধান্ত হবে, আমি সেটির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব।”
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আরও যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ ফরিদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ, যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী মুক্তার হোসেন।
এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। মাঠের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য নেতারাই স্থান পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং তৃণমূলকে সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করতে সক্ষম, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা করি।”
ফয়েজউল্লাহ ফয়েজের মতে, “মেধাবী, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।”
দলীয় নেতাকর্মীদের অভিমত, ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সম্পন্ন এবং মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হলে স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। সেই আলোচনায় মোহাম্মদ জাকারিয়া আলম মামুন বর্তমানে অন্যতম আলোচিত নাম হিসেবে উঠে এসেছে