ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রামে গত দুই দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ার মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

বিশেষ করে পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

এসব এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, সাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের সতর্কতাও জারি রয়েছে। বেলা পৌনে ১২টায় কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নগরের আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রের ইনচার্জ বিজন রায় জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আমবাগানে ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে নিচু এলাকার সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে।

অনেক স্কুলে পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, পথচারী, জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। গণপরিবহন চলাচলও কমে গেছে। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

সকালে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হন ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর মনিটরিংয়ের কারণে দুই দিনের টানা বৃষ্টির পরও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করছেন। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা অন্যতম অগ্রাধিকার।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

মেয়র বলেন, খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে মেয়র নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মেয়র চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন-কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দেন।

মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। যেসব এলাকায় অতীতে জলাবদ্ধতার প্রবণতা ছিল, সেসব স্থানে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি খাল, নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জলাবদ্ধতা,বিভিন্ন এলাকা,চট্টগ্রাম,পাহাড়ি ঢল,ভারী বৃষ্টি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত