ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ঢাকা মেডিকেলের অবদান জাতির জন্য গর্বের: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ঢাকা মেডিকেলের অবদান জাতির জন্য গর্বের: প্রধানমন্ত্রী

গত আট দশকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অবদান জাতির জন্য গর্বের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‌একটি জাতির অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; তা নির্ভর করে সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আর সেই ভিত্তি নির্মাণে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম। দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ আট দশক ধরে যে অনন্য অবদান রেখে চলেছে, তা জাতীয় গর্বের বিষয়। এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমি প্রাক্তন, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক তৈরি করেছে, যারা দেশে ও বিদেশে পেশাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্ব এবং সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন।

তারেক রহমান বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি স্বাস্থ্যখাতকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করে আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যনেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং স্বাস্থ্য গবেষণায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৮০ বছরের গৌরবময় অভিজ্ঞতা এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাদিবসের প্রেরণাকে ধারণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতেও জ্ঞান, মানবিকতা, গবেষণা ও সেবার ক্ষেত্রে উৎকর্ষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিবারের দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসকগণ আগামী দিনেও দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আপনাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা ও জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে রোগী সাধারণের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনাদের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।

চিকিৎসা শিক্ষা,স্বাস্থ্যসেবা,ঢাকা মেডিকেল,প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত