
তিস্তা পাড়ে আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল ও দেশের অভ্যন্তরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তিস্তায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বুধবার সকালে তিস্তা নদীর ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে সতর্কতা সংকেত জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোট ৫৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বেড়েছে জনভোগান্তি।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বুধবার বেলা ১২টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম-এ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। তাই নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দেশের অভ্যন্তরেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫৪ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ১২২ মিলিমিটার, নীলফামারীতে ৬১ দশমিক ২ মিলিমিটার, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ১০৬ দশমিক ৭ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১২ মিলিমিটার, লালমনিরহাটে ২৩ মিলিমিটার এবং রংপুরে ৫৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।