ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাজবাড়ীতে কোটি টাকার টার্মিনাল এখন গ্যারেজ, ক্ষোভ স্থানীয়দের

রাজবাড়ীতে কোটি টাকার টার্মিনাল এখন গ্যারেজ, ক্ষোভ স্থানীয়দের

প্রায় ৩০ বছর আগে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজবাড়ীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অবহেলা ও অযত্নে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। মূল্যবান অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে এটি বাসের গ্যারেজ ও যানবাহন মেরামতের স্থানে পরিণত হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে রাজবাড়ী শহরের শ্রীপুর এলাকায় প্রায় ৪ একর ১৪ শতাংশ জমির ওপর বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৪ সালের ১৯ এপ্রিল তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জাহানারা বেগম এর উদ্বোধন করেন। পরে ২০০০ সালে টার্মিনালটি রাজবাড়ী পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৭ সালে কিছুদিন চালু থাকলেও ২০০৯ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়।

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয়ের অর্থ ধাপে ধাপে জেলা পরিষদকে পরিশোধ করার কথা থাকলেও পৌরসভা এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। বর্তমানে জেলা পরিষদের পাওনা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অথচ পৌরসভা টার্মিনাল ইজারা ও সংলগ্ন মার্কেট থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় করছে।

স্থানীয় বাসমালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহর থেকে দূরে অবস্থান এবং টার্মিনাল এলাকায় যাত্রী কম থাকায় বাসগুলো সেখানে যেতে চায় না। বর্তমানে শহরের মুরগির ফার্ম, বড়পুল এবং জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের কার্যালয়ের সামনে মহাসড়ক থেকেই যাত্রী ওঠানামা করছে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের অপেক্ষমাণ কক্ষের অধিকাংশ চেয়ার নেই, দরজা-জানালা ভাঙা, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে যানবাহন মেরামতের যন্ত্রপাতি রাখা হয়েছে। আশপাশে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা ও পানি। টার্মিনাল ঘিরে গড়ে ওঠা অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল বিশ্বাস বলেন, মহাসড়কের ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত টার্মিনাল চালু করা হলে যাত্রী ও শহরবাসী উপকৃত হবে।

বাসচালক কৃষ্ণ হালদার বলেন, টার্মিনাল কার্যকর করতে হলে সব বাসকে বাধ্যতামূলকভাবে সেখানে অবস্থান করতে হবে। বর্তমানে রাতে বাস রাখা হলেও সকালে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তোলা হয়।

বাস সুপারভাইজার জামাল বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় ভবনটি নষ্ট হচ্ছে। এটি সংস্কার করে দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা ছামাদ গাজী বলেন, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সরকারি স্থাপনা এভাবে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পরিবহন শ্রমিক দুলাল জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সন্ধ্যার পর টার্মিনালটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, টার্মিনালের প্রবেশপথ ও অবকাঠামো সংস্কার প্রয়োজন। এ বিষয়ে মালিকপক্ষ বৈঠক করেছে এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, জেলা পরিষদের বকেয়া অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হচ্ছে। বাস টার্মিনাল পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরেও টার্মিনালটি কার্যকরভাবে চালু না হওয়ায় এটি এখন বাসের গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। জমিটির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে একাংশে বাস টার্মিনাল এবং অন্য অংশে এক হাজার আসনবিশিষ্ট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম ও জেলা কালেক্টরেট স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অডিটোরিয়াম নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষোভ স্থানীয়দের,গ্যারেজ,কোটি টাকার টার্মিনাল,রাজবাড়ী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত