
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির লেখক সম্মেলন-২০২৬। ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের বৈশাখী চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং সমবায় অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক, প্রখ্যাত কবি ও গবেষক আমিনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “চাঁদপুরের সাহিত্য অঙ্গন অনেক শক্তিশালী। চর্যাপদের এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা দেখে বুঝেছি, কতটা নিখুঁতভাবে এখানে পুরস্কার প্রদান করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণত আমাদের দেশের সাহিত্য অঙ্গনের মানুষদের মধ্যে রাজনৈতিক বাড়াবাড়ির কারণে চর্চার জায়গাটা দিন দিন নিরস হয়ে পড়ছে। এই সংকট কাটিয়ে ওঠা জরুরি।”
সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান।
অনুষ্ঠানে দেশের ৬ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার-২০২৫ ও ২০২৬ তুলে দেওয়া হয়। কবিতায় রহমান হেনরী, কথাসাহিত্যে আকিমুন রহমান, শিশুসাহিত্যে এনায়েত রসুল-এর হাতে ২০২৫ সালের পুরস্কার এবং কবিতায় জরিনা আখতার, প্রবন্ধসাহিত্যে প্রণব মজুমদার ও নাটকে মোস্তফা কামাল যাত্রা-এর হাতে ২০২৬ সালের চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হন ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর অ্যাড. আলেয়া বেগম লাকী।
একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা-র সভাপতিত্বে এবং মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন আহ্বায়ক শিউলী মজুমদার।
শংসাপত্র পাঠ করেন জয়ন্তী ভৌমিক, আইরিন সুলতানা লিমা, কামরুন্নাহার বিউটি, পিএম বিল্লাল, মিজানুর রহমান স্বপন ও ঐশী ঘোষ। কবিতা আবৃত্তি করেন দিপান্বিতা দাস, নাজমুল ইসলাম, প্রাপ্তি এবং রাসেল ইব্রাহীমসহ অনেকে।
দিলীপ ঘোষের হাওয়াইন গিটার, বেলাল শেখের বাঁশি এবং বাচিকশিল্পীদের আবৃত্তিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, “২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিত পুরস্কার প্রদান করে আসছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে আমাদের চাঁদপুর শহর।”
তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে শতাধিক লেখক, শিল্পী ও সমাজকর্মীর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের শেষে ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।