
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রাধাস্যর তালুকদার বাড়ির মৃত রঞ্জন আলী ও মৃত বিলাতের নেছার ৭ পুত্রের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তির সুষম বণ্টন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলী (৭০) অভিযোগ করেন, তাকে ও তার আরও দুই ভাইকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে বৈঠকে হট্টগোল ও হুমকির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে বাদী মোহাম্মদ আলী বলেন, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ফকির বাজারে ওয়ার্ড সদস্য মো. রবিউল আলম অরুণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মোহাম্মদ আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বৈঠক চলাকালে একপর্যায়ে তার সহোদর ভাই মো. আলম মাস্টার তার গলা চেপে ধরেন এবং তাকে হুমকি দেন। এ ঘটনার পর তিনি হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আলমসহ আমার অন্য চার ভাইয়ের আচরণে আমরা শঙ্কিত।”
বাদীর সহোদর ভাই সোলায়মান বলেন, “আমাদের ৭ ভাইয়ের মধ্যে আলমসহ চারজন পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকাংশ অংশ জবরদখল করে রেখেছেন। বড় ভাই আলীসহ তিনজনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাত ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই ফকির বাজারে জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে দোকান ভাড়া দিয়েছেন।
এ ঘটনায় বাদী আলীর ছেলে ইকরাম বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পত্তির সুষম বণ্টন এবং একটি স্থায়ী সমাধান চাই।” স্থানীয়রাও বিরোধটির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী আলম মাস্টার বলেন, “ফকির বাজারে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির পরিমাণ বেশি। পৈত্রিক সম্পত্তির সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। কিন্তু আমার বড় ভাই আলী বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি।”
অপর বিবাদী মোঃ আবুল কালাম বলেন, “ফকির বাজারের জায়গা আমার পিতা আমার টাকায় ক্রয় করেছেন। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।