ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পানির নিচে মহিষতুলির একমাত্র ব্রিজ, স্থায়ী সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী

পানির নিচে মহিষতুলির একমাত্র ব্রিজ, স্থায়ী সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের মহিষতুলি ঝাড়ীর ঝাড় এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর খেয়াঘাটে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে কাঠের তৈরি ব্রিজটি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প উপায়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহিষতুলি, ঝাড়ীর ঝাড় এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য এই ব্রিজটিই ছিল একমাত্র সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু ভারী বর্ষণে নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঠের ব্রিজটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে এলাকাবাসীকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে চলমান পরীক্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকে বাধ্য হয়ে ছোট নৌকা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে পারাপার হচ্ছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী, আজিজুল ইসলামসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। কাঠের ব্রিজটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এখানে একটি স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এলাকার কৃষক জসীমউদ্দীন বলেন, এই পথে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পেরে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু বর্তমান দুর্ভোগই দূর হবে না, বরং এলাকার শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

তাদের বিশ্বাস, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং হাজারো মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।

এলাকাবাসী,স্থায়ী সেতুর দাবি,একমাত্র ব্রিজ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত