ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে মৎস্য আড়তের দুর্গন্ধ ও যানজটে নাকাল এলাকাবাসী

সিরাজগঞ্জে মৎস্য আড়তের দুর্গন্ধ ও যানজটে নাকাল এলাকাবাসী

সিরাজগঞ্জের কুতুবের চর এলাকায় সরকারি পেরিফেরি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি মৎস্য আড়ত পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হলেও সরকারের রাজস্ব আদায়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে আড়তটির কারণে দুর্গন্ধ, যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা এবং পরিবেশ দূষণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলের পাশে প্রায় তিন বছর আগে আড়তটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে প্রায় তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ আড়তে দেড় শতাধিক মাছের কাঁটা রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ও পেরিফেরি ছাড়াই আড়তটি পরিচালিত হলেও বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সেখানে পরিচালিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার সচিব এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করে আড়তটি উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আড়তটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মাছের প্রতিটি কাঁটার জন্য ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং বরফকল স্থাপনের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়। এতে এককালীন প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও আড়তটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সভাপতি হিসেবে ফজলার রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল-আমিনের নাম থাকলেও প্রকৃতপক্ষে পূর্বের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই আড়ত পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আক্তারুজ্জামান, ইসমাইল হোসেন, নূর মোহাম্মদ, লাভলু তালুকদার ও আমজাদ হোসেন জানান, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় আড়তকেন্দ্রিক যানবাহনের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। মাছ পরিবহনে ব্যবহৃত নসিমন, ট্রাক, পিকআপ ও অটোভ্যানের অবাধ চলাচলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তারা আরও বলেন, মৎস্য আড়তের বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সলঙ্গা বাজারসংলগ্ন গাড়ুদহ নদীতেও বর্জ্য ফেলায় নদীর পানি দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সরকারি পেরিফেরির আওতায় না থাকায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আড়তটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

অভিযোগের বিষয়ে মৎস্য আড়ত কমিটির সভাপতি ফজলার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নুরনবীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত এলাকাবাসীর কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে বিষয়টি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আড়তটি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলমান রয়েছে। এ কারণে পেরিফেরি সংক্রান্ত বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নাকাল এলাকাবাসী,দুর্গন্ধ ও যানজট,মৎস্য আড়ত,সিরাজগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত