
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয় চত্বর এলাকার বৃক্ষবাগানে শামুকখোল পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। পাখিগুলোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ও কলরব উপভোগ করতে প্রতিদিন নারী-পুরুষের ভিড় জমছে। উপজেলা প্রশাসনও পাখিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী ওই উপজেলা কার্যালয় চত্বর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছে কয়েক মাস ধরে শামুকখোল পাখির বসবাস। প্রথমে এক ঝাঁক পাখি এখানে এলেও পরবর্তীতে ঝাঁকে ঝাঁকে আরও পাখি আসতে থাকে। দেখতে অনেকটা বকের মতো এসব সাদা ও কালো ডোরাযুক্ত স্বাস্থ্যবান পাখি হাজার হাজার সংখ্যায় এখানে আবাস গড়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে অনেক পাখি বাসা বেঁধে ডিম দিয়েছে এবং বাচ্চা ফুটিয়েছে।
প্রতিদিন সকালে পাখিগুলো খাদ্যের সন্ধানে যমুনা নদীর দিকে যায় এবং বিকেল ২টার মধ্যে আবাসস্থলে ফিরে আসে। এরপর মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের কলরবে মুখর থাকে পুরো এলাকা। এ দৃশ্য দেখতে পড়ন্ত বিকেলে নারী-পুরুষ উপজেলা কার্যালয় চত্বরে ভিড় জমায়। বিশেষ করে পাখিপ্রেমীরা ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করেন।
তবে উড়ন্ত পাখির বিষ্ঠায় অনেকের জামাকাপড় নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া মাঝে মধ্যে কিছু স্বাস্থ্যবান পাখি হঠাৎ মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন অবস্থায় কিছু মানুষ পাখি ধরে নিয়ে রান্না করে খাচ্ছে।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক আলোকিত বাংলাদেশ-কে বলেন, এসব পাখি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে। খাদ্যের প্রাপ্যতা ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশের কারণে তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে। এদের প্রধান খাদ্য শামুক, ছোট মাছ, ঝিনুক ও ব্যাঙ। খাদ্যের সন্ধানে তারা প্রতিদিন সকালে যমুনা নদীতে যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ে ফিরে এসে আবাসস্থলে কলরব করে। অন্য স্থান থেকে গাছের পাতা ও ছোট ডাল সংগ্রহ করে তারা বাসা তৈরি করে এবং অনেক পাখি ইতোমধ্যে বাচ্চাও দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, শামুকখোল পাখির জীবনযাত্রায় গ্রীষ্মকালীন বা শীতকালীন বৈশিষ্ট্যের তেমন পার্থক্য নেই। ধারণা করা হয়, বকজাতীয় পাখির সঙ্গে এদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরিন জাহান এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা কার্যালয় চত্বরে কয়েক মাস আগে শামুকখোল পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখিগুলো এখানে এসেছে। দেখতে অত্যন্ত সুন্দর এসব পাখির কলরবও মনোমুগ্ধকর। প্রতিদিন পাখি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরেই এসব পাখি এ এলাকায় অবস্থান করছে। এ কারণে বেলকুচিকে ‘পাখির উপজেলা’ বলেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে।