
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে খাল-বিলে বন্যার পানিতে ফাইবার (হাত ছিপ বর্শি) দিয়ে মাছ শিকারের হিড়িক পড়েছে। শখের বসে প্রতিদিন অনেকেই এ মাছ শিকার করছেন। তবে অনেকে ধরা মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রিও করছেন। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে খাল-বিলে মাছ ধরার এ দৃশ্য চোখে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে যমুনার পানি খাল-বিল ও নদী-নালায় প্রবেশ করছে এবং যমুনার তীরবর্তী বিল এলাকায় ইতোমধ্যেই পানি ভরে উঠেছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীঘেঁষা ভাটপিয়ার, খোকশাবাড়ি ও ছোনগাছা ইউনিয়নের অনেক নিম্নাঞ্চলে এ পানির দৃশ্য দেখার মতো। এসব এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে শখের বসে ফাইবার দিয়ে মাছ ধরার হিড়িক পড়েছে। এ এলাকার খোকশাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন চেলাইছার বিলে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। পড়ন্ত বিকেলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক লোকজন শখের বসে এ বিলের পাড়ে বসে ফাইবার দিয়ে মাছ ধরছেন।
বুধবার বিকেলে মাছ শিকারি আব্দুল করিম (৩৮), আবু হানিফ (৩০)সহ অনেকেই বলেন, বন্যার পানি এ বিলে প্রবেশের পর থেকেই এখানে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। মাছ ধরার আগে সেখানে মুরগির খাদ্য ও সাবান মিশ্রিত ময়দা ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পাকা কলা মিশ্রিত গোলা ময়দা ফাইবার বর্শির সঙ্গে লাগিয়ে ফেলতে হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আনাগোনা শুরু হয়। এর মধ্যে রুই, বোয়াল, মৃগেল ও বাউশ মাছ বেশি ধরা পড়ছে।
এ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তারা আরও বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শখের বসে এ মাছ ধরা হচ্ছে। তবে অনেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রিও করছেন। যমুনা ও বন্যার পানির মাছ হওয়ায় এসব মাছের চাহিদাও অনেক বেশি।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিবছরই এ বিলে বন্যার পানি প্রবেশের পর এলাকার লোকজন মাছ ধরে থাকেন। তবে শখের বসে অনেক লোকজন ফাইবার দিয়ে এ বিলে মাছ ধরে থাকেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।