
রাজবাড়ী পৌর শহরের ২৮ কলোনি এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগী মোসা. পারুল বেগম রাজবাড়ী সদর থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, পৌর শহরের ধুনচি ২৮ কলোনি এলাকার মৃত আকবর মোল্লার ছেলে মো. আজিম মোল্লা, মো. জাহিদের ছেলে মুন, জোচনের ছেলে পিয়াস, মৃত আহম্মদ মিয়ার ছেলে আহাদ, আক্কাস শিকদারের ছেলে ওয়াসিম, সুজাত (পিতা অজ্ঞাত), সিদ্দিক শিকদারের ছেলে আবির এবং আব্দুল হাইয়ের ছেলে জাহিদ।
লিখিত অভিযোগে পারুল বেগম উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, ছ্যানদা, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন।
এতে বাধা দিলে পারুল বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করা হয়। পরে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী রেখা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আজিম মোল্লা রেখা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন এবং তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া হামলাকারীরা বাড়ির দুটি গেট ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘরের ওয়ারড্রব থেকে প্রায় ২ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত পারুল বেগম ও তাঁর পুত্রবধূ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা গ্রহণ এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. আজিম মোল্লা। তিনি বলেন, “আমার ভাগ্নেকে হাতুড়ি দিয়ে মারধরের বিষয়টি আমি পারুল বেগমকে জানিয়ে সেখান থেকে চলে আসি। পরে জানতে পারি, আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমাকে ফাঁসানোর জন্য তারা নিজেরাই এসব ঘটনা সাজিয়েছে।”
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”