
পাবনার ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। উপজেলার দিয়ার বাঘাইল এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান বিপ্লব ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার রূপপুর কড়ইতলা এলাকায় মামলাটি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত পক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুন্নবী লিখিত বক্তব্যে জানান, ঝুট ব্যবসার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তারা প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ কিংবা আসল মূলধন—কোনোটিই তারা পাননি। পাওনা অর্থ দাবি করায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তাদের ‘ডাকাত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এ সময় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন নুরুন্নবী।
তবে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে পালিয়ে যান নুরুন্নবীসহ অন্য আসামিরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ রাশেদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দিয়ার বাঘাইল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই পাবনার গাছপাড়া এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাক দুটি উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এক আসামি মো. নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।