ঢাকা রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঈশ্বরদীতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ

ঈশ্বরদীতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ

পাবনার ঈশ্বরদীতে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন ওই গৃহবধূ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই নুর আলম বাপ্পি বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বেদুনদিয়া এলাকার নুর আলম বাপ্পির বোন লতা খাতুনের সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে জয়নগর শিমুলতলা গ্রামের রেজাউল করিম খানের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লতা খাতুনকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে রেজাউল করিম খান আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লতা খাতুনকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া, কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা আহত লতা খাতুনকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী লতা খাতুন অভিযোগ করেন, এর আগেও তার স্বামীর চারটি বিয়ে হয়েছিল এবং নির্যাতনের কারণে আগের স্ত্রীরা সংসার ছেড়ে চলে যান। তিনি দাবি করেন, তাকে বিভিন্ন সময় মারধর, গলা চেপে ধরা, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার পরিচালনা করেন। সেখানে থেরাপি ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন নারীকে ডেকে এনে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এসবের প্রতিবাদ করলেই তাকে নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রেজাউল করিম খান। তিনি বলেন, "স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ হতেই পারে। সে হিসেবে আমি তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মেরেছি।"

ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এলাকার একটি কুচক্রী মহল এবং আমার স্ত্রী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এ ধরনের কোনো কাজ করি না। আপনারা চাইলে তদন্ত করে দেখতে পারেন।"

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, "এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

লিখিত অভিযোগ,নির্যাতনের অভিযোগ,ঈশ্বরদী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত