
নিত্যপণ্যের বাজারে শাক-সবজির দাম বৃদ্ধির মধ্যেই এবার প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। টানা বৃষ্টিতে সব ধরনের শাক-সবজির দাম বাড়ার পর এবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পেঁয়াজের বাজারও। কয়েকদিন আগেও বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঈশ্বরদী পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে পেঁয়াজের এই ঊর্ধ্বমুখী দামের চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন থেকে চার দিন আগেও ছিল ৪০ টাকা। তুলনামূলক ছোট বা মাঝারি মানের পেঁয়াজের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
শুধু পেঁয়াজই নয়, কাঁচা মরিচ ও অন্যান্য শাক-সবজির দামও চড়া। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। অথচ এক মাস আগেও এটি ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। অন্যান্য সবজির মধ্যে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে উৎপাদন এলাকা পাবনার সাঁথিয়ায় টানা বৃষ্টিজনিত সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সাঁথিয়ার মোকাম থেকে পেঁয়াজ পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় গুদামে পানি জমে যাওয়ায় পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে, ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
উপজেলার আড়মবাড়িয়া বাজারের কাঁচাবাজারের বিক্রেতা খোকন বলেন, “পাবনার সাঁথিয়া থেকে মূলত এই অঞ্চলে পেঁয়াজ আসে। কিন্তু গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির কারণে মোকামেই এখন পেঁয়াজের দাম চড়া। আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বাধ্য হয়ে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
পৌর শহরের বাজার করতে আসা ক্রেতা আব্দুল আলিম বলেন, “গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনেছি। এখন ২০ টাকা বেশি দিয়ে কিনলাম। প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। হঠাৎ করে এমন দাম বৃদ্ধি আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।”
উপজেলার আওতাপাড়া এলাকার আরেক ক্রেতা বলেন, “বিক্রেতাদের এটা একটা বাহানা বা অজুহাত যে পানির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।”