
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে ৭ জন বাংলাদেশি নারী ও ১ শিশুকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে বেনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত বিশেষ টহলে তাদের আটক করা হয়।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানাধীন নবদুর্গাপুর গ্রামের জনৈক ইসমাইল হোসেনের ধানক্ষেতের পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়। সীমান্ত মেইন পিলার ৬২/৫-এস থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের অবস্থান ছিল।
বিজিবির টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয় দুইজন সাক্ষীর সামনে সকাল সাড়ে ৬টার সময় তাদের আটক করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার ওনাইঘর গ্রামের মৃত জব্বার আলীর স্ত্রী রেশমি আক্তার (৩০), টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার সখিপুর (সিকদার রোড) গ্রামের শহীদুল্লাহর মেয়ে শরীফ আক্তার (৩১), বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার কাচনা গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিলা খাতুন (২৭), রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার খামার মাগুরা লক্ষ্মীনগর গ্রামের জোয়ার মোল্লার মেয়ে রাশিদা খাতুন (১৯), পাবনা জেলার সদর থানার শ্রীকুল গ্রামের মৃত আনসার আলীর কন্যা আসিয়া খাতুন (৩৮), যশোর জেলার শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামের মৃত সুমন মিয়ার মেয়ে কাজল (২০), একই জেলার একই থানার একই গ্রামের সোলেমান দফাদারের মেয়ে হাওয়া বিবি (৫১) ও তার মেয়ে শিরিন (১০)।
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা বিনা পাসপোর্টে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
এ ঘটনায় মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) বেনীপুর বিওপির জেসিও-৯৫৪৪ সুবেদার মো. ফিরোজ খান বাদী হয়ে ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশের ১১(১)(গ) ধারায় জীবননগর থানায় একটি এজাহার ও মামলা দায়ের করেছেন।
সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও সীমান্ত অপরাধ রোধে বিজিবির এই কঠোর অভিযান ও সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে।