
নোয়াখালীতে তরুণীদের দিয়ে পর্নো ভিডিও তৈরি, ভিগো অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ ভিডিও প্রচার ও পতিতাবৃত্তি করানোর অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর রাবেয়া হাসপাতালের পাশে একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আটক তরুণীদের দিয়ে পর্নো ভিডিও তৈরি, ভিগো অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ ভিডিও প্রচার ও পতিতাবৃত্তি করানোর অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
এ সময় নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর চেয়ারম্যানঘাটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এনে আটক রাখা তরুণীদের উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
আটককৃতরা হলেন—মো. সালা উদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। সালা উদ্দিন বিপ্লবের পরিবারের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত তরুণীদের একজন সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে। এ সময় পর্নো ভিডিও তৈরির ভিডিও ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, চাবুক, চাকু, কেচি ও নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া তরুণীদের মধ্যে একজন ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে তরুণীটি উল্লেখ করেন, আসামি সালা উদ্দিন বিপ্লবের সঙ্গে তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে পরিচয় হয়। তাকে পার্লারে চাকরি দেওয়ার কথা বললে তিনি এ মাসের দুই তারিখে চৌমুহনী এসে বিপ্লবের বাসায় ওঠেন। বাসায় আরও তিনজন তরুণীকে তিনি দেখতে পান।
বাসায় ওঠার পরপরই তার হাতের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে যৌনকর্মে লিপ্ত করা হয়। পর্নো ভিডিও ধারণ করে তাদের বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিগো অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন মানুষকে দেখিয়ে টাকা আয় করা হয়। তার সঙ্গে আটক অন্য মেয়েদের কেউ কেউ দুই বছর ধরে সেখানে আটকে আছে।
উদ্ধার হওয়া তরুণী আরও বলেন, এসব ভিডিও তৈরি ও অপকর্ম করতো বাবা-মা ও দুই ছেলে মিলে। ছেলে যৌনকাজ করতো, বাবা ভিডিও ধারণ করতো এবং ভিগো অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা উপার্জন করতো। প্রতিবাদ করলে তাদের চাবুক, ছুরি ও কেচি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হতো।
উদ্ধার হওয়া তরুণীরা আরও জানান, বিপ্লব বহু বিবাহ করেন। স্ত্রীদেরও যৌনকাজে লিপ্ত করে অনলাইনে ভিডিও প্রচার করে টাকা উপার্জন করেন। উদ্ধার হওয়া তরুণীরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত তরুণীদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।