ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া কবিরাজের প্রতারণা, সর্বস্বান্ত ইকতারুল

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া কবিরাজের প্রতারণা, সর্বস্বান্ত ইকতারুল

গোপন রোগের চিকিৎসা, দাম্পত্য সংকট, বিয়ে না হওয়া, প্রেমে ব্যর্থতা—এমন বহু সমস্যা সমাধানের জন্য ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। আগ্রহী কেউ ফাঁদে পা দিলে ভুয়া তাবিজ-কবচ দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালংকার। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে ভণ্ড ভুয়া কবিরাজ মইনুল ইসলাম।

‘মইনুল ইসলাম’ নামের ফেসবুক আইডিতে বিজ্ঞাপন দেখে মেসেঞ্জার ও একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামের খাদেম হোসেনের ছেলে ইকতারুল ইসলাম।

ইকতারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসায় পড়ুয়া দাবি করা ‘ভণ্ড কবিরাজ’ মইনুল ইসলাম জ্বিন দিয়ে চালানের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি কাজ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কাজের বিনিময়ে বিকাশ নম্বরে সাত দফায় ১ লাখ ৮ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে কাজের অগ্রগতির বিষয়ে তাগিদ দিলে একপর্যায়ে সবকিছু থেকে তাকে ব্লক করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ফেসবুক আইডিতে বিজ্ঞাপনে দেওয়া দুটি নম্বর সংগ্রহ করেন ইকতারুল। নম্বর দুটিতে যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগীর ছবি, নাম-ঠিকানা ফেসবুকে পোস্ট করে মানহানি করাসহ নানাভাবে হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করা হয়।

ভুক্তভোগী ইকতারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কথিত তান্ত্রিক নামধারী ভণ্ড ভুয়া কবিরাজ মইনুল ইসলাম বলেছিল, তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মইনুল ইসলাম নামের কথিত তান্ত্রিক নামধারী ভুয়া কবিরাজ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই হাতিয়ে নিচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারকদের বিজ্ঞাপন দেখে ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

কথার জাদু দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজের ফলাফলের শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতারকদের এসব বিজ্ঞাপনে দাম্পত্য কলহ, বিয়ে না হওয়া, প্রেমে ব্যর্থতা, কাউকে বশ করা, শত্রুকে মরণবাণ মেরে ধ্বংস করে দেওয়া, মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানোসহ সব ধরনের কাজের স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু প্রতিকার পাওয়া তো দূরের কথা, প্রতারকরা কাজের ফলাফলের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে বোকা বানিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। এসব প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কোনো নজরদারি, কঠোরতা বা আইন প্রয়োগ না করায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতে কবিরাজ, মইনুল ইসলাম, তান্ত্রিক, সাধক, গুরুজী নামের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তবে প্রতারণার কৌশল হিসেবে এসব অ্যাকাউন্টে প্রতারকরা ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করছে। এসব অ্যাকাউন্টে তারা নিজেরাই বিভিন্ন জনের ছবি-ঠিকানা দিয়ে কাজের সফলতার পোস্ট করছে। এসব পোস্টে তাদের মনোনীত লোকজন দিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য এবং ভিডিও বানাতেও দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী ইকতারুল ইসলাম কোনো উপায় না পেয়ে আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীর পরামর্শে ভুয়া কবিরাজ মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কবিরাজ মইনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয়টির প্রতি সুনজর দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল।

সর্বস্বান্ত ইকতারুল,প্রতারণা,ভুয়া কবিরাজ,ফেসবুকে বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত