ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কম খরচে বেশি লাভ, কচু চাষে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা

কম খরচে বেশি লাভ, কচু চাষে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা

সিরাজগঞ্জে এবার দেশি ও হাইব্রিড জাতের কচু চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ চাষাবাদে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বাজারে কচু ও লতার দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে কচু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কচু চাষাবাদ বেশি করা হয়েছে। তবে উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে এ চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা খরচ কম, লাভ বেশি—এ কচু চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, প্রতিবছর নভেম্বর মাসের প্রথম থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত দেশি কচু চাষাবাদ শুরু করা হয়। কৃষকেরা বগুড়া, জয়পুরহাট ও টাঙ্গাইল জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কচুর চারা সংগ্রহ করেন। সবুজ, নারিকেল ও কালা দেশি এসব চারা জমিতে রোপণ করা হয়। এছাড়া হাইব্রিড জাতের কচু সারা বছরই কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকেন।

অবশ্য বাজারে হাইব্রিড কচুর চেয়ে দেশি কচুর চাহিদা বেশি। এ জাতের কচু জমিতে রোপণ ছাড়াও ক্ষেতের আইল, পতিত জমিসহ বাড়ির আঙ্গিনায় জন্মে থাকে। এসব কচু ও তার লতা গ্রামাঞ্চলের মানুষ খায় এবং বিভিন্ন হাট-বাজারেও বিক্রি করে থাকে।

কৃষকের জমিতে চাষ করা দেশি কচু রোপণের ৩ মাস পর থেকেই লতা উৎপাদন হয়। এ লতা বিক্রির ২/১ মাস পর থেকেই কচুও উৎপাদন হয়। এসব কচু ও লতা স্থানীয় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ কচু ও লতা ক্রয় করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন।

এ চাষাবাদে বছরে ৮/৯ মাস লতা উৎপাদন হয় এবং সেইসঙ্গে কচু বিক্রি হলেও তার পোয়া (চারা) অনেক ক্ষেতেই থেকে যায়। এতে ওই জমিতে পুনরায় কচু চাষাবাদ হয়ে থাকে। এ চাষাবাদে খরচের চেয়ে লাভ বেশি। এ কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা খুশি।

এদিকে, এ চাষাবাদে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বড় হামকুড়িয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ওয়াজেদ আলীর স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে কচু চাষাবাদ করছেন। এ বছর তিনি ১৮ হাজার টাকা দিয়ে ৪০ শতক জমি লিজ নেন। এ জমিতে যথাসময়ে দেশি ও হাইব্রিড কচুর চারা রোপণ করেন। এ চাষাবাদে খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

প্রায় ৩ মাস পর থেকেই ১২০ টাকা কেজি দরে লতা বিক্রি শুরু করেন এবং প্রতি পিস কচু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করেন। বর্তমানে বাজারে লতা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন এবং কচু ২০/২৫ টাকা পিস বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার কচু ও লতা বিক্রি করেছেন। এছাড়াও নভেম্বর মাস পর্যন্ত আরও কচু ও লতা উৎপাদন হবে।

তিনি খুশিতে বলেন, ‘এ কচু চাষেই আমার ৩ ছেলে-মেয়ে স্কুল-কলেজে লেখাপড়াসহ সংসারও চালানো হচ্ছে।’ অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ বলেন, কচু চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিবছরই এ জেলার বিভিন্ন স্থানে কচু চাষাবাদ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শও দিচ্ছে। বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা,কচু চাষ,বেশি লাভ,কম খরচ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত